সর্বশেষ সংবাদঃ

দিল্লি গণধর্ষণ, ফাঁসি এড়াতে রাজসাক্ষী!

০৭ জানুয়ারি,২০১৩

বিশ্ব ডেস্ক: চোরা শোনে না ধর্মের কাহিনী। দিল্লির গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের হোতারা কি নিজেদের অপরাধ উপলিব্ধ করে অনুতপ্ত? তারা কি তাদের অপকাণ্ডের বীভৎসতা বুঝতে পেরে নিজেদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে চাইছে? কি তাদের মনের অবস্থা?

চিন্তা করুন কতোটা কঠিন হলে ওই নির্যাতনের খড়গ চালানোর পরও মুমূর্ষু দুই ব্যক্তিকে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলতে পারে তারা? চিন্তা করুন কী শাস্তি তাদের জন্য হতে পারে উপযুক্ত?

দিল্লিতে ১৬ ডিসেম্বর চলন্ত বাসে মেডিকেল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযুক্ত সেই পাঁচজন এখন পুলিশ হেফাজতে। সোমবার তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে আদালতে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ উদ্ধারে পুলিশের ঘোষণার পর তাদের সোমাবর আদালতে তোলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও অপহরণ, ডাকাতি ও হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ওই ধর্ষকদের হাতে নির্যাতিত ও নিহত ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত ছয়জনের ফাঁসি চাইছেন। বলেছেন, ‘ওরা মানুষ নয়, পশুও নয়। পশুরাও এত নিকৃষ্ট ব্যবহার করে না কারও সঙ্গে।’

অভিযুক্ত ছয়জনের ফাঁসির দাবি অবশ্য গোটা ভারত জুড়েই উঠছে। ওই নিকৃষ্টদের জন্য কোটি কোটি ধিক্কারের সাথে আর কি চাইতে পারে মানুষ! তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি। তাতেও কি ওদের অপকর্মের বদলা হবে?

ওই মর্মান্তিক ঘটনায় সমব্যথীদের দাবি দোষীদের মৃত্যুদণ্ড। এটা সর্বজনবিদিত। এ ব্যাপারে কারো ভিন্নমত না থাকারই কথা। কিন্তু ওই অপকাণ্ডের অপরাধী যারা তাদের কী ধারণা? কি ফল আশা করে তারা?

সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, তাদের মধ্যে দু’জন এখন শাস্তি কমানোর জন্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

অথচ এই পবন গুপ্ত আর বিনয় শর্মা আগে বলেছিল, ‘আমাদের ফাঁসিই দিন!’

সেটা তাদের বোধোদয় নাকি শাস্তি কমানোর কৌশল, তা নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠেছিল। আজ তারা রাজসাক্ষী হতে চাওয়ায় উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার হয়ে গেল। তবে, তাদের সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন আইনজীবীরা।

এক আইন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, যেসব মামলায় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের রাজসাক্ষী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়া। পরিবর্তে তাদের লঘু সাজা মেলে।

এ ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই তেমন নয়। তাছাড়া দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের মতো বীভৎস অপরাধে রাজসাক্ষীর প্রশ্নই ওঠে না’ জানান তিনি।

ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযুক্তদের জানানো হয়েছিল, নিজেদের কোনও কৌঁসুলি না থাকলে তারা আইনি সাহায্য চাইতে পারে। পবন ও বিনয় সেসব চায়নি। তারা রাজসাক্ষী হওয়ার আর্জি জানিয়েছে।

রাম সিংহ এবং তার ভাই মুকেশ সিংহ অবশ্য তাদের হয়ে লড়ার জন্য আদালতের কাছে আইনি সাহায্য চেয়েছে। ইতিমধ্যে, অভিযুক্ত পাঁচ জনকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট।

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানডে পিপলকে দামিনীর বাবা জানিয়েছেন, এই ছয়জনের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ানোর কথাও একবার ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন আর তা করতে চান না। আদালতই যা করার করুক।

এর আগে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী শশী তারুর প্রস্তাব করেছিলেন, ওই তরুণীর নাম প্রকাশ করা হোক এবং ভারতের ধর্ষণ-বিরোধী আইনের নামকরণ তার নামে হোক। সেই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তরুণীর বাবা। বলেছিলেন, মেয়ের নামে আইনের নাম হলে সেটা হবে বিরল সম্মান।

এমনিতে ভারতীয় আইনে ধর্ষিতার নাম প্রকাশ করার নিয়ম নেই। ধর্ষিতা নিজে অথবা তার অবর্তমানে তার পরিবার নাম প্রকাশে অনুমতি দিতে পারে। তা বাদে প্রশাসন বা সংবাদমাধ্যম বা বিচারবিভাগ নিজে থেকে নাম প্রকাশ করতে পারে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও পৈশাচিক নির্যাতনের পর তাকে এবং তার ছেলেবন্ধুকে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান ওই ছাত্রী।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/কিউআই/এসআই_ ২৩২৬ ঘ.

অন্যান্য সংবাদ(এশিয়া)

পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট সমাধানে চীনা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

বুধবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। গত মার্চে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সফরে তিনি ভার . . . বিস্তারিত

হাসপাতাল ছাড়লেন ইমরান খান

গত ৭ এপ্রিল লাহোরের একটি নির্বাচনীয় সভায় মঞ্চ থেকে পড়ে গিয়ে পিঠে ব্যথা পান তিনি। বুধবার তাকে লাহোরের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com , info@real-timenews.com