সর্বশেষ সংবাদঃ

ব্রহ্মপুত্রের ৪০ ভাগ পানি তুললে মরে যাবে ৬১ নদী

০৪ জানুয়ারি,২০১৩

ঢাকা: প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বহমান অভিন্ন নদীগুলোর অবস্থা ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসব নদীতে পানির প্রবাহ ভবিষ্যতে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা করেন তারা।

শুক্রবার ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন নদী নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সম্মেলনে যোগ দেয়া ভারতীয় বিশেষজ্ঞ গোপাল কৃষ্ণ বলেন, নদীগুলোর ব্যবহার কিভাবে হবে তা নিয়ে ভারতেও এক ধরনের বিতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, পানি খাতে যে সমস্যাই হোক না কেন এটা ভারতের ভেতরকার জীব-বৈচিত্রকেও ক্ষতি করবে। এটি আসলে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। এক্ষেত্রে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের কথা বলা যায়।

গোপাল কৃষ্ণ বলেন, ধাপে ধাপে নদীগুলোকে মেরে ফেলা হচ্ছে। কারণ এই অঞ্চলের মানুষ এ বিষয়ে এখন বিভক্ত। যারা যে অংশে বাস করে তারা কেবল সেই অংশের দিকেই খেয়াল করে। ফলে এই খাতে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের জটিলতা।

এ থেকে উত্তরণের জন্য বিষয়টিকে সমষ্টিগতভাবে দেখার তাগিদ দেন ভারতীয় এ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।

গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা অববাহিকায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও চীনসহ প্রায় ১০০ কোটি মানুষের বসবাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন নদীতে বাঁধ তৈরির মাধ্যমে পানি আটকানোর প্রবণতার কারণে নদীগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ শরীফ জামিল বলেন, এ ক্ষেত্রে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তঃনদীগুলোর যদি প্রবাহ যথাযথভাবে না থাকে তাহলে নদীতে তলানি জমে। কারণ বাংলাদেশ পলি বিধৌত মাটির দেশ। ফলে পলি জমার কারণে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। ফলে দিন দিন নদীগুলো মরে যাচ্ছে।

শরীফ জামিল বলেন, এখন বাংলাদেশে নদী বেঁচে আছে মাত্র ২৩০টি। ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে যদি ৪০ ভাগ পানি তুলে নেয়া তাহলে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় আরো ৬১টি নদী মরে যাবে। আর এটা হলে নদী বিধৌত এই দেশ আর বসবাসের যোগ্য থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে অভিন্ন নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের প্রবণতা আর অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন নদীগুলো হুমকির মুখে পড়বে।

উজানে বাঁধ তৈরির কারণে বাংলাদেশ অংশে পদ্মা, গড়াই ও তিস্তার মতো নদী শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে রয়েছে।

এ বিষয়ে নেপালের বিশেষজ্ঞ গোপাল এস চিন্থন বলেন, সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জরুরি।

তিনি বলেন, সম্ভাবনা সব সময়ই আছে। কিন্তু সমস্যা হলো এসব সম্ভাবনার সঠিক ব্যবহার নেই। এক্ষেত্রে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত। কারণ তারা মাঝখানে বসে সব দেশকে সহযোগিতা করতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নদীগুলোর নেতিবাচক অবস্থা ছাড়াও বাংলাদেশের ভেতরে প্রবাহমান নদীগুলোও এখন চরম সংকটে।

সম্মেলনের উদ্যোক্তা বাপার কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, নদীর অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, সর্ব প্রথম আমরা যেটা দেখতে চাই তা হচ্ছে- বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নদী নিয়ে যেসব প্রকল্প আছে, এগুলো কেন করা হয়েছিল, সাফল্য কতটুকু, এতে নদীর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং কিভাবে ব্যবহার করলে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত এবং ভারত থেক বাংলাদেশ সবাই উপকৃত হতে পারবে।

আয়োজকদের মতে, এই অঞ্চল অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে নদীগুলো প্রবাহমান রাখা জরুরি। সেজন্য এই সম্মেলন থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসবে তা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।

রিয়েলট-টাইম নিউজ ডটকম/বিবিসি/একেএ/এসআই_ ২১৩০ ঘ.

অন্যান্য সংবাদ(জাতীয়)

‘সাধারণ’ সভা-সমাবেশের ব্যাপারে আপত্তি নেই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যের ব্যাখ্যায় দুপুরে ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসল . . . বিস্তারিত

পদ্মা কেলেঙ্কারিতে পরিবারের কারো জড়িতের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর নাকচ

তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, এসএনসি বিভাগ নিয়মিতভাবেই সাংকেতিক ভাষায় নাইজেরিয়া, জাম্বিয়া, উগান্ডা, ভারত, কাজাখস্তানসহ অন্যান্য . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com , info@real-timenews.com