সর্বশেষ সংবাদঃ

বিশ্বজিতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবারের প্রত্যাখ্যান

০৪ জানুয়ারি,২০১৩

ঢাকা: ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে নিহত বিশ্বজিৎ দাসের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। দুর্বল ময়নাতদন্তের মাধ্যমে খুনিদের বাঁচাতে সরকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এতে বিশ্বজিতের বাবা অতন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, বিশ্বজিতের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাত ও কোপের দাগ ছিল। কিন্তু চিকিৎসক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বলে শুনেছি।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দুর্বল হলে খুনিরা সাজা কম পাবে। এ কারণেই চিকিৎসককে দিয়ে এভাবে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

খুনিদের শাস্তি দাবি করে বিশ্বজিতের বাবা বলেন, ‘প্রকৃত খুনির শাস্তি হোক। তবে নিদোর্ষ কেউ যেন শাস্তি না পায়। সরকারের কাছে এটা আমাদের দাবি।’

অতন্দ্র চন্দ্র বলেন, ‘দেশবাসী দেখেছে আমার ছেলেকে কীভাবে খুন করা হয়েছে। দেশের এমন কোনো লোক নেই যে আমার ছেলে হত্যার বিচার চায় না। দলমত নির্বিশেষে সবাই আমার ছেলে হত্যার বিচার চায়।’

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বজিতের মা কল্পনা রাণী দাস বলেন, ‘আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। সেজন্য এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে, বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম কুমার দাস ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে নতুন করে প্রতিবেদন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একটা পত্রিকায় এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে না কি একটা দাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওর (বিশ্বজিৎ) শরীরে অনেক দাগ ছিল, অনেক জখম ছিল। শরীরে এমন কোনো জায়গা বাদ ছিল না যেখানে আঘাতের চিহ্ন ছিল না।’

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে উত্তম কুমার বলেন, ‘যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, তা সত্য ও সঠিক নয়। আমরা চাই যা সত্য তা-ই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হোক। আবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চাই আমরা।’

অন্যদিকে, সরকার নয়/ছয় করে খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া চিকিসক ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী সূত্রাপুর থানার এসআইয়ের গ্রেপ্তার দাবি করেন তিনি। এছাড়া বিশ্বজিতের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি করেন সরকারের কাছে।

গোবিন্দ বলেন, ‘তার (বিশ্বজিৎ) শরীরে পঁচিশটি কোপের দাগ রয়েছে। আমরা পত্রিকার মাধ্যমে তা জানতে পেরেছি।’

তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাকসুদুর রহমান বলেন, বিশ্বজিতের পিঠে, ডান বগলের নিচে ও বাম পায়ে মোট তিনটি কোপের দাগ ছিল। ডান বগলের নিচের কোপটি গভীর ছিল।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ৯ ডিসেম্বর সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার এলাকায় অবরোধ সমর্থকরা মিছিল বের করলে তাতে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এ সময় তারা পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিতকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। আক্রান্ত বিশ্বজিৎ নৃশংস ও বর্বর এই হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি।

পথচারীদের কেউ কেউ বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে এতেও বাধা দেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এরপর প্রাণ বাঁচাতে আবার দৌড়ে বিশ্বজিৎ শাঁখারীবাজারের একটি গলিতে গিয়েই ঢলে পড়ে যান। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষণ পর মারা যান বিশ্বজিৎ।

এরপর গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় জড়িতদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/একেএ/এসআই_ ১৮২৩ ঘ.

অন্যান্য সংবাদ(জাতীয়)

নেতিবাচক প্রচারণা: বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় মার্কিন টিভির গোপন ক্যামেরা

ওই চ্যানেলটির একটি প্রতিনিধি দল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর ঢাকায় আসে এবং একটি কারখানায় ক্রেতা সেজে ভেতরের পরিবেশ গোপন ক . . . বিস্তারিত

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ব্যর্থদের সবক নেব না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রকে অব্যাহত রাখা এবং দেশের উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়, সেসব বিষয় আমাদের খুব ভাল করেই জানা আছে। ব্ . . . বিস্তারিত

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com , info@real-timenews.com