সর্বশেষ সংবাদঃ

দায়িত্বজ্ঞানহীন, সিঁদেল চোর ও খালু

এবিএম মূসা ১৯ অক্টোবর,২০১২
এবিএম মূসা

অধুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত জগন্নাথ কলেজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান একজন নিছক পাঠ দানকারী শিক্ষক ছিলেন না। ছিলেন একাধারে ছাত্রদের অভিভাবক। মধুর ও অভিভাবকসূচক সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে প্রাক্তন ছাত্রদের সঙ্গেও বজায় থাকত। বদমেজাজি ও জেদি, মুখফোঁড় ও ঠোঁটকাটা বলেও পরিচিতি ছিল। আবার ছিল অন্তরে ফল্গুধারার মতো বহমান অসীম ভালোবাসা। এ কারণে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক—সবাই তাঁকে নিয়ে যেমন শঙ্কিত থাকতেন, তেমনি অপরিসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতেন।

দর্শনের অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় হয়েছিল তাঁর পুত্র আমার বন্ধু সাংবাদিক শফিক রেহমানের মাধ্যমে। মাঝেমধ্যে তৎকালীন বিমানবন্দর রোডে অবস্থিত বাড়িতে যেতাম। বাড়িটির তিনি অদ্ভুত নাম দিয়েছিলেন—‘সংশয়’। দর্শনের অধ্যাপক কেন এই নাম দিয়েছিলেন, কোনো দিন জিজ্ঞেস করিনি। শ্রদ্ধেয় সেই অধ্যাপক একদিন সন্ধ্যায় পুরোনো গণভবন, বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ একাডেমি, সুগন্ধায় এসে হাজির। দিনের সব কার্য শেষে পেছনের বারান্দায় বঙ্গবন্ধু তাঁর কয়েকজন স্নেহভাজন সাংবাদিক—আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ, এম আর আখতার মুকুল ও আমি এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে বসে খোশগল্প করতেন। ওই সময়টিই ছিল নতুন রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত, সদাব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীর অবসর বিনোদনের একমাত্র সময়। তবে যেকোনো দর্শনার্থী আগমন-নির্গমনের সময় একটি খাতায় দস্তখত অথবা টিপসই দিতেন।

একদিন এমন বৈঠকে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করলেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান। মুজিব ভাই তাঁকে দেখেই সোফা থেকে লাফ দিয়ে উঠে পা ছুঁয়ে সালাম করে সবিনয়ে বললেন, ‘স্যার, আপনি? কোনো প্রয়োজন থাকলে খবর দিলে আমিই আপনার বাসায় যেতাম।’ অধ্যাপক সেসব কথা কানেই নিলেন না। রাষ্ট্রের সর্বক্ষমতাধারী ব্যক্তিটিকে ধমক দিয়ে বলতে থাকেন, ‘তুমি পেয়েছ কী? প্রধানমন্ত্রী হয়েছ বলে সাপের পাঁচ পা দেখেছ?’ অধ্যাপককে প্রধানমন্ত্রী হাতে ধরে স্বভাবসুলভ হাসির সঙ্গে সোফায় বসিয়ে শান্ত করলেন। এমন আপ্যায়ন পেয়ে অধ্যাপক একটুখানি অপ্রস্তুত হয়ে স্থির হলেন। জগন্নাথ কলেজের আশপাশের কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানতে চাইলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? শহরের কোনো এলাকার সামান্য ঘটনা, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে এ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে কেন, সে প্রশ্ন না করে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মুজিব ভাই এ ব্যাপারে একান্ত সচিব রফিকউল্লাহ চৌধুরীকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে বললেন।

এই ব্যতিক্রম ঘটনাটি উল্লেখের প্রাসঙ্গিকতা হচ্ছে, তাঁরই কন্যা ও রাজনৈতিক চরিত্র ও আদর্শের উত্তরাধিকারী সম্প্রতি তিনজন ‘বয়স্ক ব্যক্তি’ (নাগরিক) সম্পর্কে একই ধরনের তিনটি বক্তব্য দিয়েছেন, যা ওপরের ঘটনার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁদের সম্পর্কে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন, শ্লেষাত্মক বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। তাঁদের একজন প্রবীণ চিন্তাবিদ সাবেক আমলা, বিএনপির সাজানো নির্বাচনী ব্যবস্থা ভণ্ডুল করে দেওয়া ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান। দ্বিতীয়জন দেশের প্রবীণতম আইনজীবীদের অন্যতম ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। যিনি ব্যারিস্টার শফিক আহমদসহ এক-এগারো পরবর্তী সময়কালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় লড়েছেন। দুঃসময়ের একমাত্র কান্ডারি। তৃতীয়জন, পাঠক বুঝতে পারছেন এই নিবন্ধকার, যিনি দীর্ঘ দুই বছর তাঁর ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কলম হাতে নিয়েছিলেন। যেভাবেই হোক ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে টেলিভিশনে তাদের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) মুণ্ডুপাত করায় অকুতোভয় ছিলেন। মাইনাস টু ফর্মুলা বানচাল করায় বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। খালেদা জিয়াকে দেশ ছেড়ে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনাকে কানাডায় টেলিফোন করে শিগগির দেশে আসতে বলেছিলেন।

এই তিনজনের অপরাধ—টেলিভিশনের টক শোতে তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের ক্ষমতাধরদের নানা পন্থায় তাঁর ভাষায় ‘গলা কাটছেন’। অবশ্য সাগর-রুনির যেমন ছুরি-চাপাতি দিয়ে সত্যিই গলা কাটা হয়েছিল, তেমন নিষ্ঠুরভাবে নয়। আমরা করছি যুক্তি ও কার্যকরণ ব্যাখ্যার মাধ্যমে তীক্ষধার কলম অথবা জিহ্বা দিয়ে স্বনিয়োজিত মুরব্বি অবস্থানে থেকে ভুলত্রুটি দেখিয়ে ও সরকারের ভুলত্রুটি সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে; গলা কেটে নয়।

তাঁদের এসব বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘মধ্যরাতের গলাকাটা’, তাঁদের কাউকে বলেছেন, ‘সিঁদেল চোর’। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি এই ‘গলাকাটা সিঁদেল চোরদের’ কথা রাত জেগে শোনেন। তিনজনের একজন হলেন আকবর আলি খান, তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন সেটিই প্রথমে আলোচনা করা যাক। তিনি নাকি স্বীয় কর্তব্যে অবহেলা করে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে অকারণে পদত্যাগ করেছিলেন। বাস্তবে তিনি মতলববাজ ‘উদ্দিনদের’ চিরস্থায়ী হওয়ার খায়েশ পদত্যাগ করে ভণ্ডুল করেছিলেন। তিনি একা নন, বাকি আরও তিনজন সুলতানা কামাল, শফি সামি ও হাসান মশহুদ চৌধুরী একযোগে একই উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করেন। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বিএনপির সাজানো নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য লগি-বৈঠা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। লগি-বৈঠার ঘায়ে বিপর্যস্ত হলেও সাজানো নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন উদ্দিন সাহেবদের দুজন। ক্ষমতা গ্রহণকারীদের পরম ইচ্ছার ফানুসটি ফুটো করে চার উপদেষ্টা পদত্যাগ করার কারণটি আমরা মধ্যরাতে টক শোতে ফাঁস করে দিয়েছিলাম, পত্রিকায় লিখেছিলাম। শেখ হাসিনা লগি-বৈঠা দিয়ে যা করেছিলেন, আমরা তখন ‘সিঁদ কেটে’ তা-ই করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত তিন ‘উদ্দিনের’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে যেতে হলো।

তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পেলাম। আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়ে সরকার গঠন করল। অথচ এই তিনজনের বলিষ্ঠ সময়োচিত কৌশলের বেনিফিশিয়ারি তথা ফল ভোগীরা বা প্রধানমন্ত্রী কিন্তু তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন না। উল্টো তিনজন সম্পর্কে বিচিত্র সব মন্তব্য করছেন। তাঁরা মনে করেন এখনো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে সন্দেহ করেই ‘মধ্যরাতে গলাকাটার দল’ তত্ত্বাবধায়ক-অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে লিখছেন, টক শোতে বলছেন।

আমার টক শোতে আওয়ামী নামধারী, পুরোপুরি আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী নয়, এমন কতিপয় সরকার পরিচালনায় কতিপয় অদক্ষ, অযোগ্য, মন্ত্রী-সাংসদ, দলীয় লেবাস পরা দুর্নীতিবাজ ও দখলবাজদের সমালোচনা করি বলেই পরোক্ষে ‘সিঁদ কাটা চোর’ অভিহিত হয়েছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে জানাই, তাঁর সরকারের গলা আমরা কাটছি না। সেই কাজটি বাস্তবে করেছেন একদিকে তাঁর ছাত্র নামধারী বীরপুঙ্গবেরা, অপর দিকে বিশ্বব্যাংক, হলমার্ক, ডেসটিনিকে চুরিতে মদদদানকারী দলীয় পরিচয় পাওয়া সুবিধাভোগীরা। সাংসদের শতকরা ৯৫ জন, যাঁদের কথা টিআইবি বলেছে। অপর দিকে কুইক মুনাফা আদায়ের অনৈতিক পন্থা অবলম্বনকারী রেন্টাল বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় সুবিধাভোগী আর টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজদের কথা না-ই বা বললাম।

প্রকৃতপক্ষে ‘গলাকাটা’ কাজটি আমরা সহজ-সরলভাবে সরাসরি যুক্তিতর্ক ও সাহসী-সত্য ভাষণের মাধ্যমে টক শোতে বলি। টক শোতে আমরা যা বলি বিভিন্ন সূত্রে দলমত-নির্বিশেষে তার প্রতিক্রিয়া পাই। অতীতের অনেক ত্যাগী কিন্তু এখনো দরদি আওয়ামীপন্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বলেন, ‘আমরা পারি না, আপনি আমাদের হয়ে বলছেন।’

তাঁদের এই সমর্থন ও প্রশংসায় আমি নিজে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরতে না পারলে একাত্তরের অভিযুক্ত ও প্রমাণিত দোষীদের বিচার হবে না। বরং তাদের গাড়িতে আবার লাল-সবুজ পতাকা উড়বে। আমি মনে করি ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ভোলা ও বাগেরহাটে সংখ্যালঘুদের যে কারণে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তেমন ঘটনাবলি আবার ঘটতে পারে। অবশ্য পটিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে সন্ত্রাসের পর সেখানে প্রশাসন আর কতিপয় আওয়ামী পরিচয়ধারী সন্ত্রাসীদের ভূমিকার খবর পড়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছি না, কে কখন ক্ষমতায় থাকলে কী ঘটতে পারে।

সিঁদেল চোর ও ভোট চুরি বন্ধ করে দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদত্যাগী উপদেষ্টার কথা বলা হলো। বাকি রইল ‘খালুর কথা’। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, যাঁর সম্পর্কে শেখ হাসিনার একটি চমৎকার মন্তব্য আমাকে শুনিয়েছিলেন লন্ডনপ্রবাসী বন্ধু-কলামিস্ট আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বন্দী অবস্থা থেকে এক-এগারো আমলে যেভাবেই হোক সাময়িক মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গেলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে ক্ষণিক অবস্থানকালে গাফ্‌ফারের কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলাম তাঁর ভাতিজিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হয়েছে কি না। গাফ্‌ফার বললেন, ভাতিজি বলেছেন, ‘আমার রয়েছে রফিক-শফিক, চিন্তা-ভাবনা সব তাঁদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে এসেছি।’ উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সুদিনের আইনজীবীরা তখন ‘চাচা আপন বাঁচা’ নীতি অবলম্বনে কেউ এক-এগারো সমীপে দেনদরবার করছেন, কেউ ঘরের দরজায় খিল দিয়ে বসে আছেন।

আইনজীবীদ্বয় রফিক-উল হক আর শফিক আহমদ নেত্রীর জন্য অক্লান্ত আইনি লড়াই করে যাচ্ছিলেন সম্পূর্ণ বিনা স্বার্থে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে শফিক ভাইকে আইনমন্ত্রী করলেন। মন্ত্রী হয়ে শফিক ভাই তীক্ষ দৃষ্টি রাখলেন তাঁর শেখ হাসিনার জন্য লড়াই যেন বিফলে না যায়। আইনের শাসনক্ষমতা পেয়ে যেন হাসিনা বেআইনি পথে সরকার পরিচালনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও রুখতে পারেন। সেটি কতখানি পেরেছেন তা তিনি আর জনগণই ভালো বলতে পারবেন। আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রিয়ভাজন সম্মানিত শফিক ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে ভাবি পরিবেশিত কুমিল্লার মিষ্টি খাওয়ার সময়ে প্রায়ই সরকারের সমালোচিত পদক্ষেপ নিয়ে আলাপ হয়। আইনমন্ত্রীর কোনো পদক্ষেপে আমি ক্ষুব্ধ মন্তব্য করলে তিনি বলেন, ‘আমার পদত্যাগপত্র আপনার কাছে রক্ষিত আছে। আমাকে কর্তব্যচ্যুত মনে করলে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেবেন।’ আমরা বিশ্বাস করি, তেমন কিছু হলে শফিক ভাই নিজেই সেটি যথাস্থানে পৌঁছে দেবেন।

এবার ‘কার খালু’ রফিক ভাইয়ের কথা বলি। মুখফোঁড়, তপ্তমেজাজি আবার স্পষ্টবাদী রফিক ভাইয়েরও যেন কী হলো, ‘তত্ত্বাবধায়ক বনাম অন্তর্বর্তী’ সরকার সম্পর্কে একটি খেয়ালিপনা বক্তব্য দিলেন। বললেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের নিরসনে বিতর্কের ইতি টানতে প্রয়োজনে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের ভূমিকা পালনে ‘অনিচ্ছা নেই’। আর যায় কোথায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম রূপরেখা প্রণয়নকারী শেখ হাসিনা দুঃসময়ের লড়াকু শুভাকাঙ্ক্ষীকে পরিহাস করে বললেন, ‘বয়স্ক ব্যক্তিটি হাটের মাঝে জনে জনে জিজ্ঞেস করছেন, আমি কার খালু রে।’

পুরোনো দিনের এই সস্তা রসিকতার মর্ম সবাই জানেন, সূত্র উল্লেখ করে ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই। রফিক ভাই সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মানহানিকর ব্যঙ্গাত্মক গেঁয়ো বক্তব্যটি করার কারণ তিনি নাকি কোনো একসময়ে বিরোধী দলের প্রভাবশালী নেত্রীকে ‘আমার নেত্রী’ বলে সম্বোধন করেছেন।

আওয়ামী লীগের জননেত্রীকে এখন আমার জিজ্ঞাসা, তাঁর মন্ত্রিসভার এক সদস্য সেই দেশনেত্রীর সঙ্গে চীন সফর করেছেন। জেনারেল জিয়ার সঙ্গে খাল কেটে এখন তাঁর জোটে যাঁরা ভিড়েছেন, তাঁরা ‘কার খালু?’

এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।


সূত্র: প্রথম আলো, ১৯ অক্টোবর ২০১২

অন্যান্য কলাম

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com , info@real-timenews.com