সর্বশেষ সংবাদঃ

  • হোম
  •   সাক্ষাৎকার

অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত থাকবে

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ০৫ জানুয়ারি,২০১৩
ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

দেশের অর্থনীতিতে ২০১২ সালে বড় ধরনের কোনো সাফল্য নেই। বিদায়ী বছরে দেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চাপে ছিল। ভারসাম্যের দিক দিয়েও নেতিবাচক পাল্লাই ভারী। রেমিট্যান্স ও মূল্যস্ফীতির দিক দিয়ে কিছু ভালো অর্জন থাকলেও বর্তমানে যেসব চাপ আছে তা নতুন বছরে অব্যাহত থাকবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। প্রকৃত খাত, বিশেষ করে মূলধনী মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানি ঋণাত্মক হয়ে গেছে, যা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল তা পূরণ হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থউপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নয়া দিগন্ত : বিদায়ী ২০১২ সালে দেশের অর্থনীতি কেমন ছিল বলে আপনি মনে করছেন?

ড. আজিজুল ইসলাম : বিদায়ী বছরে দেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চাপে ছিল। অর্থনীতিতে নেতিবাচক দিকই বেশি ছিল। তবে দু’টি ইতিবাচক দিক ছিল। এর একটি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ভালো এবং মূল্যস্ফীতির মাত্রা কিছুটা কমেছে। অন্য দিকে বর্তমানে যেসব চাপ আছে তা নতুন বছরে অব্যাহত থাকবে। দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ইউরোপীয় বাজারে আমাদের পণ্যের রফতানি পড়ে গেছে। নতুন কিছু কিছু বাজার সম্প্রসারণ করা হলেও প্রবৃদ্ধি তেমন বাড়বে না। এ ছাড়া প্রকৃত খাত, বিশেষ করে মূলধনী মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানি ঋণাত্মক হয়ে গেছে, যা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ক্রমেই বেড়েছে। ব্যাংকগুলো আমানত পাচ্ছে না। ফলে কমে গেছে আমানতের প্রবৃদ্ধির হার।

সরকারি অর্থায়ন তেমন একটা খারাপ নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। আগের বছর ২০১১ সালে দেশে সঞ্চয় প্রবৃদ্ধি কম ছিল। সঞ্চয়পত্রের প্রবৃদ্ধি এখনো পতনের দিকে রয়েছে। তবে নন-ট্যাক্স রেভিনিউ ভালো। কারণ এ ক্ষেত্রে টেলিকম খাত থেকে ভালো অঙ্কের অর্থ পাওয়া গেছে। সামনে থ্রিজি লাইসেন্স দিয়ে হয়তো আরো কিছু রাজস্ব আদায় হতে পারে। সরকার বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল তা পূরণ হবে না। সরকার সাহায্য ফান্ডের প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। এখন ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে যদি সরকার প্রকল্পের কাজ চালায় তাহলে অর্থনীতিতে চাপ পড়বে।

সরকার নতুন কোনো গ্যাসসংযোগ দিতে পারেনি। যা দেশের শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের জন্য সুখকর নয়। গ্যাসের ক্ষেত্রে চাহিদা অনেক বেড়েছে। কিন্তু এখানে সঙ্কট রয়েছে।

নয়া দিগন্ত : প্রবৃদ্ধি কতটুকু অর্জিত হবে বলে আপনি মনে করছেন?

ড. আজিজুল ইসলাম : দেশের অর্থনীতি যে ধরনের চাপে রয়েছে তাতে চলতি অর্থবছর সরকার প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে তা অর্জিত হবে না। গত অর্থবছর যে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল তাও কমে যাবে। সর্বসাকুল্যে এই প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হতে পারে, এর চেয়ে বেশি আশা করা যায় না।

নয়া দিগন্ত : বিদায়ী বছরে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা আপনার দৃষ্টিতে কী?

ড. আজিজুল ইসলাম : সরকারের অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এমনকি সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতাও বেড়েছে। ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়া হলো ব্যয়বহুল। আর বৈদেশিক খাত থেকে নেয়াটা অনেক কম সুদ দিতে হয়। কিন্তু গত বছরে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ কমেছে।

সরকার চার বছরেও কয়লানীতি প্রণয়ন করতে পারেনি। একটা কয়লাভিত্তিক প্লান্ট করা গেলে এখন তা থেকে সুফল পাওয়া যেত। কিন্তু কিছু ব্যক্তির স্বার্থে তা নেয়া হচ্ছে না।

নয়া দিগন্ত : নতুন বছরে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি আপনার কী পরামর্শ?

ড. আজিজুল ইসলাম : অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে সরকারকে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। সরকার যে প্রচেষ্টা করছে তা কতটুকু সফল হবে সেটি দেখার বিষয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কিন্তু ভর্তুকি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা কয়েকবার দিয়েও সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করছে না। সম্প্রতি রূপালী ব্যাংকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ঋণখেলাপি হয়েছে। তবে এসব সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পদক্ষেপ নিতে হবে। অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে।  সরকারি খাতের যেসব ব্যয় রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সরকারের গভর্নেন্সের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জড়িত। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, হরতাল, জ্বালাও পোড়াও চলতে থাকে তাহলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবেই।

 

সূত্র: নয়াদিগন্ত, ৫ জানুয়ারি ২০১৩

অন্যান্য সাক্ষাৎকার

adv

ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: ০১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com , info@real-timenews.com