ঈদের বিশেষ ভিজিএফ কার্ডে ভাগ বসালেন আ.লীগ নেতারা
|
 |
 |
 |
|
Sun 12 Aug 2012 7:45 AM BdST
|
রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর ব্যুরো প্রধান
রংপুর, ১২ আগস্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য ঈদের বিশেষ বরাদ্দ ভিজিএফ কার্ডের ৩১ ভাগ বরাদ্দ নিয়ে নিল আওয়ামী লীগ নেতারা।
রংপুরের পীরগাছায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জনপ্রতিনিধিদের দুঃস্থ মানুষের তালিকা করে ভিজিএফ কার্ডের এ চাল বিতরণ করার নিয়ম থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতারা তা মানছেন না। এজন্য ওই বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অতি দরিদ্র পরিবারের জন্য ২৬ হাজার ২৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ২৬২ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ দেয়া এ চাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা দুঃস্থ মানুষের তালিকা করে তাদের মধ্যে জন প্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফ কার্ডের শতকরা ৩১ ভাগ কার্ড বন্টন করে নিয়েছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাকিম সর্দার দলের নেতা-কর্মীর নামে বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফ কার্ডের শতকরা ৫০ ভাগ কোটা দাবি করেন।
কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানদের তীব্র প্রতিবাদ ও বাধার মুখে ভিজিএফ কার্ডের শতকরা ৫০ ভাগের পরিবর্তে ৩১ ভাগ কার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা বণ্টন করে নেয়ার জন্য দাবি জানান। অবশেষে তাদের দাবি অনুযায়ী নেতা-কর্মীদের নামে শতকরা ৩১ ভাগ কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়।
পীরগাছা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফছার আলী অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফ কার্ডের শতকরা ৫০ ভাগ দাবি করেছিলেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানদের তীব্র প্রতিবাদ ও বাধার মুখে তারা শতকরা ৩১ ভাগ কার্ড বন্টন করে নেন।
তিনি আরো বলেন, এই ভিজিএফ কার্ডের তালিকা জনপ্রতিনিধিদের করার নিয়ম থাকলেও, সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করে কার্ডের শতকরা ৩১ ভাগ বণ্টন করে নিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা পেলেন শতকরা ৬৯ ভাগ। এটা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও অগণতান্ত্রিক।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাকিম সর্দার ভিজিএফ কার্ডের শতকরা ৩১ ভাগ কার্ড বন্টন করে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রোকনুজ্জামান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা কিভাবে কার্ডের তালিকা করবেন সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।’
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরওয়ার জাহান বলেন, ‘ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ ইউপি চেয়ারম্যানদের নামেই দেয়া হয়েছে, কোনো দলের নামে নয়।’
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/এসআই_ ০১৪১ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|