চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১১ আগস্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী অপহরণ মামলার অভিযোগপত্র থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে দুই আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অপহৃত স্কুল ছাত্রীর বাবা শিবগঞ্জের লছমানপুর গ্রামের বাবলু আকতার এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তার কন্যা ইভাকে দীর্ঘদিন থেকে একবরপুর গ্রামের বাদল আলীর ছেলে রনি উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তার পরিবারে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৮ জুন রনি পরিকল্পিতভাবে তার সহযোগী সাইদুর, আজমআলীসহ ৪/৫ জন প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ইভাকে মিশুকযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর ৭ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক রাখে তাকে।
পরে পুলিশ গাজীপুর থেকে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় অপহৃত স্কুলছাত্রীর বাবা বাবলু আকতার বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে ২০ জুন রাতে শিবগঞ্জ থানার এএসআই ফজলুর রহমান এজাহারভুক্ত আসামি সাইদুর রহমান ভল্টুকে বিনোদপুর বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে।
কয়েকশ’ মানুষের সামনে সাইদুরকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মিশুকে করে থানার পথে রওনা দেয় পুলিশ। কিন্তু এক প্রভাবশালী নেতার ভাগ্নের নির্দেশে এবং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কালুপুর বেলী ব্রিজের কাছে ওই আসামিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এরপর থানা পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি সাইদুর ও আজমকে অব্যাহতি দিয়ে সমপ্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
তবে এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি পিটিশন দেয়া হবে বলে জানান বাবলু আকতার।
তিনি অপহরণকারীদের বাঁচানোর জন্য শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির উদ্দিন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ইব্রাহীম খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অপহৃত ছাত্রী তাসলিমা খাতুন ইভা ও তার মামী মানসুরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইব্রাহীম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামি সাইদুর অপহরণকারী রনির মামা।
তিনি জানান, ভাগ্নি অপহরণে মামা সহযোগিতা করেছেন- বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই। এজন্য তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি জমির উদ্দিন বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সত্য নয়। পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান মামলাটি নিজে তদারকি করেছেন। কাজেই তদন্ত মোতাবেক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তিনি রাজনৈতিক চাপ ও টাকার বিনিময়ে হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/এমআই_ ১৯৩৬ ঘ.