ঢাকা, ৮ আগস্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সপ্তম সাক্ষী আব্দুল মজিদ পালোয়ান তার জবানবন্দি পেশ করেছেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২- এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি এই জবানবন্দি পেশ করেন।
জবানবন্দি শেষে তাকে জেরায় মাত্র দুটি প্রশ্ন করে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে আদালত।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমার নাম আব্দুল মজিদ পালোয়ান। বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর।’
পরে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী জানতে চান, আপনাদের গ্রামে কারা বাস করতেন। সাক্ষী বলেন, স্বাধীনতার আগে আমাদের গ্রামে হিন্দু-মুসলিম মিলে বাস করতাম। ১৯৭০-৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশ লোকই আওয়ামী লীগ বাস করতো। আমার গ্রামের নাম ঘাটার চর যা কেরানীগঞ্জ থানার অধীনে।
সাক্ষী আরও বলেন, ’৭১ সালে পাঁচটি মহল্লা নিয়ে আমাদের গ্রাম। ’৭১ সালে ২৫ নভেম্বর ভোর বেলায় আমি গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পাই। ঘুম থেকে জেগে আমি বাড়ির বাইরে যায়। গিয়ে দেখি চারিদিকে আগুন জ্বলছে এবং উত্তর দিক থেকে গুলির আওয়াজ আসছে শুনতে পাই।
তিনি বলেন, আস্তে আস্তে উত্তর দিকে আগ বাড়াই এবং ঘাটার চর স্কুলের মাঠে থামি। তখন ওই গ্রামে ঝোপঝাড় ছিল। আমি একটি গাছের আড়ালে লুকাই। দেখতে পাই, পাক বাহিনীরা লোকজনকে হত্যা করছে। পাক বাহিনীর সাথে আরও কয়েকজন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা লোক ছিল।
তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আব্দুল কাদের মোল্লা। পাক বাহিনীর লোকজন হত্যা করল। কাদের মোল্লার হাতে রাইফেল ছিল। সেও গুলি করে।
মজিদ পালোয়ান বলেন, ‘ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গোলাগুলি এবং হত্যাকাণ্ড চলে। বেলা ১১টার পরে কাদের মোল্লার লোকেরা ওইস্থান ছেড়ে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পরে আমরা লোকজনকে ডেকে আনি এবং লাশ সনাক্ত করার চেষ্টা করি। হিন্দু-মুসলমান মিলে ওইখানে ৬০ জন লোক মারা যায়।’
সাক্ষী বলেন, ‘লাশ সনাক্ত করা সময় ওইস্থানে কেরানীগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ খান আসেন। তিনি আসলে পরে তার কাছে ঘটনার বর্ণনা দেই।’
তিনি জানান, ‘২৫ নভেম্বরের ঘটনার পূর্বের রাতে জয়নাল ডাক্তারের বাড়িতে আব্দুল কাদের মোল্লা মিটিং করেছেন। জয়নাল ডাক্তারের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে দুই তিন বাড়ির উত্তরে আমার বাড়ি। ঘটনার দিন ১১টার পরে ওইস্থান ত্যাগ করার পরে জানতে পারি যে, পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা খাটো লোকটির নাম আব্দুল কাদের মোল্লা।’
অভিযুক্ত আব্দুল কাদের মোল্লাকে সনাক্ত করে এরআগেও আমি গত ২৭ জুন তদন্তকারী কর্মকমর্তার কাছে আমি জবানবন্দি দিয়েছি বলে জানান মজিদ পালোয়ান।
পরে তাকে জেরা করা হয়। জেরা অসমাপ্ত রেখে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/জেডকে/এমআই_ ১৪২৭ ঘ.