ভারতে এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে তল্লাশী
|
 |
 |
 |
|
Sun 5 Aug 2012 2:35 AM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ৪ আগষ্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)—এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক স্কুলে এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে তল্লাশী চালানোয় পুলিশ দুই শিক্ষিকাকে আটক করলেও তারা জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
এর আগে পশ্চিমবাংলার শান্তি নিকেতনে বিছানা ভিজিয়ে ফেলার অভিযোগে একজন ছাত্রীকে তার মূত্র বিছানায় ঢেলে তাতে লবণ মেখে চাটতে বাধ্য করেছিল শিক্ষিকা।
তবে এবার এক ছাত্রীর চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে ওই ছাত্রীকে এ ঘটনার শিকার হতে হয়। ঘটনার সময়ে স্কুলের অন্য শিক্ষিকারাও হাজির ছিলেন।
বীরভূমের পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট হৃশিকেশ মীণা ঘটনার বিবরন দিয়ে বলেন, সিউড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় যে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে তল্লাশী চালিয়েছেন তাঁরই দুই শিক্ষিকা। অন্য কারও চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার করতে গিয়েই মেয়েটিকে বিবস্ত্র করে তল্লাশী চালানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তবে তাঁরা দুজনেই জামিন পেয়ে গেছেন।
ওই ছাত্রীটির পরিবারের দাবি, শনিবার স্কুলের একাদশ শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী শিক্ষিকার কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের আনা কয়েকটি বাংলাদেশী মূদ্রা ব্যাগ থেকে খোয়া গিয়েছে৷ অভিযোগের আঙুল তোলা হয় দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর দিকে।
এরপর একজন শিক্ষিকা তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে একটি বাংলাদেশী মূদ্রা পান। ছাত্রীর দাবি, সেই বাংলাদেশি মূদ্রাটি তারই ছিল। শিক্ষিকাকে তিনি সেকথা জানান৷ কিন্তু কোনও কথা না শুনে অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকা টিচার্স রুমে নিয়ে গিয়ে সবার সামনে বিবস্ত্র করে তল্লাশি চালান।
ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা
বীরভূমের ঘটনার পাশাপাশি মালদা জেলার একটি বেসরকারী আবাসিক স্কুলের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি কয়েকজন ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওষুধের বদলে মদ খাইয়ে দেন এবং তারপরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
ওই ছাত্রীরা থানায় অভিযোগ জানানোর পর থেকে স্কুলের মালিক বেপাত্তা বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে স্থানীয় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই স্কুল মালিক অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক কালে স্কুল ছাত্রীদের ওপরে নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। শান্তিনিকেতনে, বিশ্ব ভারতীর পাঠভবন হোস্টেলের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিজের প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করেছিলেন হোস্টেলের ওয়ার্ডেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর ওই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল দেশজুড়ে।
তার আগে, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ছাত্রীর পোশাক খুলে নেন এক শিক্ষিকা।
পশ্চিমবঙ্গে স্কুল পড়ুয়াদের শারীরিক নিগ্রহ আইনত নিষিদ্ধ। তবুও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঠিক প্রশিক্ষনের অভাবেই বারে বারে ছাত্র-ছাত্রীরা নিগৃহীত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/বিবিসি বাংলা/আরআই_ ২০৩০ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|