কয়রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমান আবাদ অনিশ্চিত
|
 |
 |
 |
|
Sat 4 Aug 2012 9:42 PM BdST
|
খুলনা, ৪ আগস্ট (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে এবারো আমন ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হবেন কৃষকরা।
আমন আবাদ অনিশ্চিত হওয়ায় উপজেলার ২৯ হাজার কৃষক এখন গভীর হতাশায়। গত তিন বছর ধরে এসব কৃষক অভাব অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছেন।
খুলনার কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইজগেটগুলো সংস্কারের অভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অকেজো। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল না হওয়া এবং দীর্ঘদিন লোনাপানি আটকে ফসলি জমিগুলো ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
২০০৯ সালে প্রলয়ঙ্করী আইলায় কয়রা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন লোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়। পর্যায়ক্রমে ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলি সংস্কার ও মেরামত হলেও পানি নিষ্কাশনের পথ স্লুইজগেটগুলো মেরামত করা হয়নি। এ কারণে দীর্ঘদিন লোনা পানি আটকে ফসলি জমিতে এর প্রভাব পড়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, ভাঙা বাঁধ মেরামতের সাথে সাথে যদি এলাকার অকেজো স্লুইজগেটগুলো সারানো হতো তা হলে বৃষ্টির পানিতে জমি ধুইয়ে সেখানে ফসল চাষের উপযোগী করা সম্ভব হতো।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার মোট সাতটি ইউনিয়নে আবাদি জমির পরিমাণ সাড়ে ১৫ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ চলছে।
আইলার প্রভাবমুক্ত আমাদি ইউনিয়নে তিন হাজার হেক্টরের বেশি এবং অন্যন্য ছয়টি ইউনিয়নে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের উপযোগী করা হয়েছে।
এরমধ্যে বাগালি ইউনিয়নে ২২শ’ হেক্টর, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে ৮৭৪ হেক্টর, মহারাজপুর ইউনিয়নে মাত্র ৬২ হেক্টর, কয়রা সদর ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টর উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে ৫৯৫ হেক্টর এবং দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে মাত্র ২ হেক্টর জমিতে কৃষকরা ২০১১ সালে আমন চাষাবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন।
লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এবার এসব জমিতেও আমন উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিন গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব প্রান্তিক চাষি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করতেন, সে সব চাষীর অনেকেই এখন এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এছাড়া যে সব কৃষক তাদের নিজ জমিতে ধান চাষে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের এখন চরম দুর্দিন। অনেক গৃহস্থ পরিবারের সদস্যরা এখন দিন মজুরি খেটে নিজেদের ভরণ-পোষণ চালাচ্ছেন।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪নং কয়রা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী গাজী বলেন, গত তিন বছর ধরে আমার ২০ বিঘা জমি খাঁ খাঁ করছে। গত বছর ধান লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জলাবদ্ধতা আর লবনাক্তায় তা মরে গেছে।
তিনি জানান, বাড়ির পাশে তরি তরকারি লাগাতাম তাও এখন আর হয় না মাটিতে লোনা ডেকে গেছে। এর আগে বাড়ির তরকারি বেচে সংসারের অন্য খরচ চালাতাম। এখন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষক বলেন, ‘এলাকার কাশিরাবাদ ও ৫নং কয়রার স্লুইজগেট দুটি চালু করা হলে আমরা ধান লাগাতে পারতাম। বর্তমানে স্লুইজগেট দুটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সংস্কারের জন্য কোন উদ্যোগ নেই।’
মোহাম্মাদ আলীর মতো কয়রা উপজেলার সব কৃষক পরিবারে এমন দুর্দিন নেমে এসেছে। তাদের দাবি, দ্রুত তাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল করা হোক। তাহলে আবারো তারা ফসল ফলাতে পারবে বলে আশা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদি উপ-বিভাগীয় সেকশন অফিসার আলিউজ্জামান জানান, অকেজো স্লুইজগেটগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পেলে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কয়রা সদর ইউনিয়নের ওড়াতলা ও কাশিরখালধার স্লুইজগেটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে গেট দুটি দিয়ে পানি সরানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। পর্যায়ক্রমে সবগুলো স্লুইজগেট সংস্কার করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিনের লোনা পানি আটকে ফসলি জমিতে এর প্রভাব পড়েছে। এটা কাটতে হলে বৃষ্টির পানিতে জমি বার বার ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এ মুহূর্তে এখানে আমরা কৃষকদের লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু জলাবদ্ধতা দূর না হলে কিছুই করা সম্ভব হবে না।’
তিনি বলেন, এবারের বোরো মৌসুমে এলাকার ১৪৫ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে ন্যারিকা জাতের ধান বীজ পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করছি জলাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে এ এলাকার কৃষকরা আবারো তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল বশার জানান, ‘এলাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। আমরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে বলেছি। কিন্তু তাদের কাজের ধীর গতিতে কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।’
তিনি বলেন, দ্রুত এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে ইতমধ্যে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/আবু তায়েব/এমএম/এসআই_ ১৫৩৫ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|