ইসলামফোবিয়ার কথা স্বীকার করল খোদ যুক্তরাষ্ট্র
|
 |
 |
 |
|
Wed 1 Aug 2012 2:06 AM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ৩১ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ইউরোপে ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে তথ্য দেয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে।
২০১১ সালের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়তে থাকায় তা রীতিমত উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ভারতের গুজরাটের মুসলমানরা এখনও নির্যাতনের ভয়ে সন্ত্রস্ত।
প্রতিবেদনে ইউরোপের কোনো কোনো সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সীমাবদ্ধতা বা বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করায় সরকারগুলোর সমালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ঘোমটা বা নেকাব নিষিদ্ধ করে আইন পাশের জন্য ইউরোপের কোনো কোনো সরকারের উদ্যোগ নেয়ায় দেশগুলোতে মুসলিম নারীদের জীবন-যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা ভিয়েনায় এক সম্মেলনে বলেছে, ইউরোপে ইসলাম-বিদ্বেষী ততপরতা এখন গণহত্যার পর্যায়ে চলে গেছে।
ইসলাম-বিদ্বেষী নরওয়েতে অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিকের সাম্প্রতিক হত্যাযজ্ঞই এর দৃষ্টান্ত।
এছাড়া গত ১০ বছরে ইউরোপে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী এবং উস্কানিমূলক ততপরতার কয়েক হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
অতি সম্প্রতি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান ও ভারতের আসামে জাতিগত দাঙ্গায় মুসলিম হত্যা ছাড়াও শ্রীলংকায় মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালের দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যের সরকার এখনও এ উগ্র আদর্শে প্রভাবিত হচ্ছে।
২০০২ সালে গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গায় অন্ততঃ ২ হাজার মানুষ নিহত হয়। নিহতেদর বেশিরভাগই ছিল মুসলমান।
ওই দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিটি দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদেরকে তাদের সাক্ষ্যের জোরালো ভাষ্যকে দুর্বল করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
গুজরাটের নিম্ন আদালতে সাক্ষ্যের অভাবে বা সাক্ষ্যের ভাষায় পরিবর্তনের কারণে অনেক অভিযুক্ত আসামী নির্দোষ হিসেবে খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হিন্দুত্ববাদের প্রভাবে ভারতের গুজরাট ও কর্ণাটকসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এরপর রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরেও এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
গুজরাট, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশে হিন্দুদের ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে কর্ণাটক রাজ্যের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ভগবত গীতাকে অন্তর্ভুক্ত করা কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
যখন আমেরিকায় রাজনীতিবিদ ও মার্কিন সেনারা ইসলাম-বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত তখন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এধরণের প্রতিবেদনের বেশ তাৎপর্য রয়েছে।
ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা, পবিত্র কোরআনে আগুন দেয়ার মতো ঘটনাগুলো মার্কিনীদের ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতার কিছু নমুণা।
আর এর পাশাপাশি মার্কিন সংবাদ ও গণমাধ্যমগুলোতে ইসলাম-বিদ্বেষ এবং ইসলাম-আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছে অব্যাহতভাবেই।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/আরআই_ ২১৫৯ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|