আফগানিস্তানে উন্নয়ন স্থবির, গেরিলারা যাচ্ছে তালেবানে
|
 |
 |
 |
|
Tue 31 Jul 2012 10:42 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ৩১ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভেস্তে যাচ্ছে।
অন্যদিকে তালেবানদের ঠেকাতে যে সব গেরিলাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল তারা এখন তালেবানদের সাথে যোগ দিচ্ছে।
আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখন সে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভাটা পড়েছে।
আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে তালেবানদের রুখতে পাল্টা গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়ার বিরোধীতা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে কর্ণপাত করেনি।
এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেই গেরিলারা স্বপক্ষ ত্যাগ করে তালেবানদের সাথে যোগ দেয়া ছাড়াও তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক নির্মাণে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল সেগুলো এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও পেন্টাগনের তত্ত্বাবধানে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হলেও তা মাঝপথে আটকে যায়।
আফগানিস্তানে ন্যাটো সৈন্যদের ওপর তালেবানদের হামলা বেড়ে যাওয়া ছাড়াও এসব উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনসমর্থন যতটা পাওয়ার কথা ছিল তা সম্ভব না হওয়ায় এধরণের সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা ছাড়াও ন্যাটো সেনাদের হাতে নিরাপরাধ মানুষ নিহত হবার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রতি জনসমর্থন কমতে থাকে।
আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষ এখন মনে করে ন্যাটো সরে গেলেই বরং তারা তাদের দেশের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম।
এদিকে যে সব গেরিলা মার্কিন অস্ত্র ও প্রশিক্ষণে সজ্জিত হয়ে এতদিন আমেরিকার দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার জন্য কাজ করছিল এখন তারা দিক পাল্টাতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশে অন্ততঃ ২৩ জন গেরিলা তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে এবং উত্তরে লড়াইরত তালেবান যোদ্ধাদের হাতে তারা তাদের মার্কিন অস্ত্র-শস্ত্র তুলে দিয়েছে।
শুরু থেকে এ ধরনের গেরিলা তৈরির কৌশলের বিরোধিতা করে আসছিলেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। কিন্তু, মার্কিন চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করে এক পর্যায়ে সশস্ত্র গেরিলা তৈরির অনুমোদন দেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন থেকে এসব গেরিলাকে আফগান সাধারণ নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব গেরিলা স্থানীয় আফগান জনবসতিতে লুটপাট ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। মার্কিন মদদপুষ্ট গেরিলারা মুক্তিপনের জন্য অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধও করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আফগানিস্তানে উন্নয়ন কাজ বিঘ্নিত হবার আরেকটি কারণ প্রকল্পে বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হওয়া। এরফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা পাঁচ থেকে সাত মাস পিছিয়ে গেছে।
২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করার যে ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দিয়েছেন, এরপর থেকে আফগান পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে।
আফগানিস্তানে উন্নয়ন কাজের সাথে জড়িত এমন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে দেশটিতে বিলিয়ন ডলারের সব প্রকল্পের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০১৫ সালের মধ্যে এধরণের উন্নয়ন প্রকল্পে ১৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমা দেশগুলো আর এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে সড়ক নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও খাবার পানি সরবরাহে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে তাতে তা শেষ হতে আরো সাত বছর সময় লাগবে।
তবে দাতাদের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি আরেক অন্তরায় বলা হচ্ছে।
এসব বিষয় সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করে আফগান সরকারের দেয়া এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয়ের অভাবও এধরণের সমস্যা হবার পেছনে কম দায়ী নয়।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/আরআই_ ১৬৪১ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|