মাতামুহুরী নদীতে তীব্র ভাঙন
|
 |
 |
 |
|
Mon 23 Jul 2012 1:44 AM BdST
|
কক্সবাজার, ২২ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- একের পর এক বন্যা। সাথে ভয়াবহ ভাঙন। কক্সবাজার জেলার অন্যতম প্রধান নদী মাতামুহুরীতে ভাঙনের তীব্রতা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
ভাঙনের কবলে পড়ে গত দুই সপ্তাহে ৫ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে নদীর দুই পাড়ের সড়ক অবকাঠামো। হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড লাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চকরিয়া শহর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ মাসে কক্সবাজারের বুকে আঘাত হেনেছে ভয়াবহতম বন্যা। এক মাসে দু-দুবার বন্যার ধকল সইতে না সইতেই আরেকটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরীর দুইপাড়ের মানুষ। গত দুই সপ্তাহে এই নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ৫ শতাধিক বসতবাড়ি।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে চকরিয়ার মাঝের কাকারা, লামার চিরিংগা, কোচপাড়া, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর এলাকায়। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে চলে গেছে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার। ভাঙনের কবলে পড়েছে চকরিয়া পৌর শহর, চকরিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মানিক জানান, ‘বন্যা হলেই লক্ষ্যাচর ইউনিয়নের আঘাত হয় বেশি। যেহেতু এটি একেবারেই মাতামুহুরী নদীর বুকে। সে হিসেবে প্রতি বছরই ভাঙতে ভাঙতে বহু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের এক লাখ ৩২ হাজার বোল্ডের ফিলারটি হুমকির মুখে। এছাড়া চিকল ঘাট থেকে কৈয়ারবিল পর্যন্ত সড়কটিও হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ঢাকাস্থ সচিবালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাহায্য সহযোগিতা আসেনি।’
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মনছুর জানান, ‘পাহাড়ি ঢলের স্রোতে কাকারায় নির্মিত নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং চকরিয়া শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতি হয়েছে। যেখানে যেভাবে ব্লকগুলো বসনোর কথা ছিল। সেগুলো ঠিকভাবে বসানো হয়নি। ফলে আজকে এ বিপর্যয়।’
চকরিয়া পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার অভিযোগ করেন, ‘আমরা আগে থেকে বলেছি, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মিত হলে এলাকাটি রক্ষা পাবে। কিন্তু তা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কেবল একটি ‘আইল’ দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে। এজন্য পুরো এলাকার এ দশা।’
ভাঙনের কারণে স্কুল মাদ্রাসা মসজিদ নদীতে চলে গেছে। মানুষের বসতবাড়ি, গোলার ধান ও দোকানপাট ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ‘যেখানে নদী ভাঙন নেই, সেখানে ব্লক বসানো হয়েছে। ভাঙন রোধ করতে হলে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গতিবেগ পরিবর্তনের জন্য স্পার দিতে হবে। এতে করে জাতীয় গ্রিডের স্থাপনাটি ভরে যাবে। পাশাপাশি রক্ষা পাবে চকরিয়া শহরও।’
নদী ভাঙনের কবলে আতঙ্কিত জীবন যাপন করছেন দুই পাড়ের ৫০ হাজার পরিবার। নদী পাড়ের বিভিন্ন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এসব সড়ক দিয়ে নৌকায় করে যাতায়াত করছে মানুষ।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/এমআই_ ১৯৪৩ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|