প্রেসিডেন্টের পথে প্রণব, তুঙ্গে প্রস্তুতি
|
 |
 |
 |
|
Sun 22 Jul 2012 6:45 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ২২ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। শুরু হয়ে গেছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগণনা। কয়েকঘণ্টা পরই ঘোষিত হবে ভারতের ত্রয়োদশ প্রেসিডেন্টর নাম।
ইউপিএ প্রার্থী প্রণব মুখার্জির জয় একরকম নিশ্চিত বললেই চলে। জিতলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ভোটের ফলের আগের দিন থেকেই ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাড়িতে সাজ সাজ রব। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগণনার আগে আপামর ভারতবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রে এই বাড়ি এবং তার আবাসিক।
এই ১৩ নম্বর তালকোটরা রোড, দিল্লিতে প্রণব মুখার্জির ঠিকানা। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষী এই বাড়িটি।
সংসদের উভয়কক্ষ এবং বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইলেকটোরাল কলেজে মোট ভোটমূল্য ১০,৯৮,৮৮২। জেতার জন্য প্রয়োজন, ৫,৪৯,৪৪২ ভোট। গত ১৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট পড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মাত্র ৭২ শতাংশ। অর্থাত্ প্রায় ১১ লক্ষ ভোটের মধ্যে ৮ লক্ষের কাছাকাছি ভোট পড়েছে।
তবুও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা আছে বলে মনে করছেন না কেউই। প্রণব মুখোপাধ্যায় ম্যাজিক ফিগার সাড়ে ৫ লক্ষের থেকে অনেকটাই বেশি ভোট পাবেন বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।
ইউপিএ শিবিরের ভোট ম্যানেজারদের হিসেব, পূর্বঘোষিত সমর্থন ও ক্রস ভোটিং মিলে অন্তত ৭ লক্ষ ভোট পাওয়া উচিত জঙ্গিপুরের সাংসদের। প্রতিদ্বন্দ্বী পি এ সাংমা পেতে পারেন ৩ লক্ষের সামান্য বেশি ভোট। ফল ঘোষণার আগের দিন থেকেই ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাড়িতে তাই গণ্যমান্য অতিথিদের আনাগোনা। আগাম অভিনন্দন জানাতে আসছেন সবাই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এনডিএ প্রার্থী পূর্ণ অ্যাজিটক সাংমাকে হারিয়ে দেশের পয়লা নম্বর নাগরিক হওয়াটা প্রণববাবুর কাছে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
এই পরিস্থিতিতে ১৩ নম্বর তালকোটরা রোডের বাসভবনে জয় উদ্যাপনের প্রস্তুতিও তুঙ্গে। বাংলোর লনে বাঁধা হয়েছে ম্যারাপ। সুসজ্জিত বসার আসন রাখা হয়েছে।
আতিথ্যে কোনও খামতি রাখতে চান না দেশের সম্ভাব্য প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার। পাশপাশি প্রেসিডেন্ট ভবনেও ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। নতুন বাসিন্দাকে স্বাগত জানাতে তৈরি হচ্ছে রাইসিনা হিলস।
কে এই প্রণব মুখার্জি প্রণব মুখার্জির জন্ম অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার কীর্ণাহার শহরের নিকটস্থ মিরাটি গ্রামে। তার পিতার নাম কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম রাজলক্ষ্মী দেবী।
প্রণব মুখার্জি একজন কলেজশিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি সাংবাদিকতাও করেন কিছুকাল। এই সময় তিনি ‘দেশের ডাক’ নামে একটি পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের’ ট্রাস্টি ও পরে ‘নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের’ সভাপতি হন।
প্রণব মুখার্জি বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিদেশ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালনের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।
দলের প্রতি আনুগত্য ও অসামান্য প্রজ্ঞা এই বাঙালি রাজনীতিবিদকে কংগ্রেস দলে ও এমনকি দলের বাইরেও বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘শ্রেষ্ঠ সাংসদ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউরোমানি পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জি পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন শুভ্রা মুখার্জির সাথে। সংসার জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক কন্যা বর্তমান। তার অবসরকালীন শখ বই পড়া, বাগান করা ও গান শোনা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/এমএম_১২৪৫ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|