হুমায়ূনের মরদেহ আসছে সোমবার, প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত
|
 |
 |
 |
|
Sat 21 Jul 2012 4:55 PM BdST
|
ঢাকা, ২১ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ আগামী সোমবার দেশে পৌঁছাবে। এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনপ্রিয় এই লেখকের মরদেহ সোমবার সকালে এমিরেটস বিমানের একটি ফ্লাইট যোগে ঢাকায় পৌঁছাবে।
এর আগে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে দিল্লি হয়ে রোববার হুমায়ূনের মরদেহ দেশে আনার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্র হুমায়ূনের মরদেহ দেশে আনার সার্বিক বিষয়টি তদারকি করছে জাতিসংঘের স্থায়ী বাংলাদেশ মিশন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ মিশন এই দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বেজমেন্টে শুক্রবার হুমায়ূনের প্রথম জানাজায় পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাঙালি অংশ নেয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন জানাজায় অংশ নেয়া বাঙালিরা। সেখানে অবতারণা হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের।
জানাজায় আমেরিকার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. আকরামুল কাদের বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন। এসময় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. একে মোমেনও শোক প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, হুমায়ূনের মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তারা বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
জানাজায় বাংলা সাহিত্যের আরেক জনপ্রিয় লেখক ও হুমায়ূন আহমেদের অনুজ ড. জাফর ইকবালও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জানাজায় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ক্যান্সার চিকিৎসাধীন হুমায়ূন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতালে মারা যান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এম এ মোমেন বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভিই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রিয় এই লেখকের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছালে কবি, সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে লেখকের জেলা নেত্রোকোনার মানুষ।
মৃত্যুকালে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এই লেখক হুমায়ূন আহমেদের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায় জন্ম হয়েছিল তার। লেখকের নিজ হাতে গড়া ঢাকার অদূরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহদান্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে যান হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটরিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন তিনি।
দুই পর্বে মোট ১২টি কেমোথেরাপি নেয়ার পর গত ১২ জুন হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. জেইন এবং ক্যান্সার সার্জন জজ মিলারের নেতৃত্বে হুমায়ূন আহমেদের দেহে অস্ত্রোপচার হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বাসায় ফিরেছিলেন এই লেখক। স্ত্রী শাওন ও দুই ছেলেকে নিয়ে কুইন্সে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকছিলেন তিনি। বাসায় ফিরলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে পুনরায় বেলভিউ হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখানে গত কয়েকদিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন তিনি।
১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই লেখালেখি শুরু করে সাহিত্য সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। নন্দিত নরকে তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। তারপর ধীরে ধীরে দেশের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিকে পরিণত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এই শিক্ষক।
টিভি নাটক লিখে ও নিদের্শনা দেয়ার পর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ূন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি নির্মাণের জন্য বিশেষ পরিচিতি পান তিনি। এজন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/বিশেষ প্রতিনিধি/একেএ/এসআই_ ১০৪৭ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|