মার্কিন সিনেট:
এইচএসবিসি-এর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ পাচার
|
 |
 |
 |
|
Wed 18 Jul 2012 3:35 AM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ১৭ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সিনেটের একটি তদন্ত দল।
এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্র শাখা থেকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের এমন কিছু ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয়েছে, যারা জঙ্গি সংগঠনে তহবিল যুগিয়েছে বলে মনে করে তদন্ত দল।
মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত মার্কিন সিনেটের ওই উপ কমিটি সোমবার এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএসবিসির শিথিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকোর মাদকচক্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি ডলার পাচার করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের কিছু ব্যাংককেও এইচএসবিসি একই ধরনের সেবা দিয়েছে।
এছাড়া মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে ব্যাংকটির কয়েকটি শাখা ইরানসহ কয়েকটি দেশের সাথে লেনদেন করেছে বলেও জানানো হয়।
সিনেট কমিটি বলছে, এইচএসবিসির তদারক ব্যবস্থা যথাযথ না হওয়ায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে ব্যাংকটির মাধ্যমে মুদ্রা পাচার হয়ে আসছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান থেকে মুনাফা এইচএসবিসির মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।
সিনেটের উপ কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর কার্ল লেভিন সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন অর্থ ব্যবস্থায় ঢোকার পথ হিসেবে এইচএসবিসির যুক্তরাষ্ট্রের শাখাকে কাজে লাগানো হয়েছে। এই ব্যাংকে অর্থ পাচারের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাদের যুক্তরাষ্ট্রের শাখাগুলোতে মেক্সিকোর মাদকচক্রের অর্থ এবং আরো কিছু সন্দেহজনক তহবিল এসেছে।
মাদকচক্রগুলো এইচএসবিসি ব্যাংকের মার্কিন শাখা দিয়ে ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল এভাবে অর্থ পাচার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচএসবিসির কর্মকাণ্ড ঠিকমতো পর্যবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকেও দোষারোপ করে লেভিন বলেন, ‘কম্পট্রোলার অব কারেন্সি অফিস অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে এইচএসবিসির দুর্বল নিয়ন্ত্রণ দেখেও বছরের পর বছর সহ্য করে গেছে।’
এ কারণে মঙ্গলবারের শুনানিতে কম্পট্রোলার অব কারেন্সি অফিসের প্রধান টমাস কারিকেও ডাকা হয়েছে।
এদিকে, এইচএসবিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিজেদের ‘দুর্বলতার’ জন্য শুনানিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে।
বিবৃতি বলা হয়, ‘আমরা ক্ষমা চাইব। ভুল যে হয়েছে তা মেনে নেব। আমাদের কাজের জবাবদিহিতা করব এবং ভুল শোধরানোর পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেব।’
বিবৃতিতে এইসএসবিসি দাবি করেছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনগুলো আরো জোরালোভাবে অনুসরণের জন্য গত বছর ব্যাংকের ওপরের দিকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিশ্বের ৮০টি দেশে ছড়িয়ে থাকা এইচএসবিসি গত বছর আয় করেছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/এমএম/আরআই_ ২১৩০ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|