বুয়েটে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট
|
 |
 |
 |
|
Wed 11 Jul 2012 8:14 PM BdST
|
ঢাকা, ১১ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটে আগাম ছুটি ঘোষণার পর ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে এ অচলাবস্থা নিরসন করতে। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় এবার লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু হল।
বুধবার সকালে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনের সামনে সমাবেশ থেকে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান।
সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমাবেশের আগে এক মৌন মিছিলে শিক্ষকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ মৌন মিছিলটি বুয়েটের বিভিন্ন ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত তারা অবস্থান ধর্মঘট পালন করবেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তা কর্মচারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলমান আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আর তাই কর্তৃপক্ষ ভয় পেয়ে এক মাস আগেই ছুটি ঘোষণা করেছে। ধারাবাহিক আন্দোলন বানচাল করার জন্য এধরনের পদক্ষেপ নেয়ার নিন্দা জানান তিনি।
ভিসিবিরোধী আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ভিসি এস এম নজরুল ইসলাম বুয়েটে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে আসছেন। কারো সঙ্গে আলোচনা না করে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করাও তারই একটি নমুনা।
শিক্ষকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে বুয়েট কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতে রোজা ও ঈদের আগাম ছুটি ঘোষণা করে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১১ অগাস্ট এই ছুটি শুরুর কথা থাকলেও মঙ্গলবার জানানো হয়, ১১ জুলাই থেকে ২৪ অগাস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রোজা ও ঈদের ছুটি থাকবে।
এদিকে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ১৪ জুলাই থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষক সমিতি। তার আগেই এ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
হঠাৎ করে ছুটি দিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ভিসি এস এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে এমনিতেই ক্লাস হচ্ছে না। উপরন্তু শিক্ষকরা তাদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করতে নানাভাবে চেষ্টা করছেন। তাই রোজা ও ঈদের ছুটি এগিয়ে এনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছুটি ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে ভিসি ও প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি গত ৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিলে শিক্ষক সমিতি তাদের আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করে। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন শিক্ষকরা।
বুধবার সমাবেশের আগে শিক্ষক সমিতির সদস্যরা পূর্ব নির্ধারিত জরুরি সভায় মিলিত হন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতাউর রহমানসহ শিক্ষকবৃন্দ।
এদিকে মঙ্গলবার ভিসি ও প্রা-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বুয়েট শহীদ মিনারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষক সমিতি ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বুয়েটের চ্যান্সেলর প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপ চায়।
বুয়েটের শিক্ষরা বলছেন, তাদের দাবি না মানার জন্যই আবারো আন্দোলন যেতে হচ্ছে। শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেও শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আবার কর্মরিতিতে যেতে হচ্ছে। বুয়েটের অধিকাংশ শিক্ষক আশা করছেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভিসি ও প্রো-ভিসি পদত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, বুয়েছে ভিসির বিভিন্ন বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে এবং ভিসি প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবি সহ ১৬টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত কর্মরিতি পালন করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/আরআই_ ১৪১০ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|