Real-time News Network

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য

Tue 10 Jul 2012 10:05 PM BdST

rtnnঢাকা, ১০ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক  জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী সৈয়দ শহিদুল হক মামা তার সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২ এ।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মামা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার শহিদুল হক মামা তার জবানবন্দি দেন।

মামা তার জবানবন্দিতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মিরপুরে কবি মেহেরুন্নেছা, তার দুই ভাই ও মাকে টুকরা টুকরা করে হত্যা করেছে কাদের মোল্লা, হাশেম হাশমী, আব্বাস চেয়ারম্যান, আক্তার গুন্ডা, হাক্কা গুন্ডা ও নেহারসহ আরো অনেকে। সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা আমি শুনতে পাই।

আরকটি ঘটনা হলো- ২৯ মার্চ ঢাকার ঠাটারী বাজার (কাপ্তান বাজার) থেকে পল্লব ওরফে টুনটুনিকে ধরে নিয়ে মিরপুর ১২ নাম্বার মুসলিম বাজার নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর প্রথম তার আঙ্গুল কাটা হয়। পরে তাকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে নির্মম ভাবে ৫ এপ্রিল হত্যা করা হয়। এ হত্যার সাথে কাদের মোল্লা, আক্তার গুন্ডাসহ আগে যাদের নাম বলেছি তারা ছিল।

এছাড়াও সাক্ষী মামা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার কথা জানান।

তিনি বলেন, একাত্তর সালে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা হয়। সে মামলায় যারা আমার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ২৫ মার্চ ভয়াল রাতে তাদেরকে নির্মমভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে কাদের মোল্লা, আফসার, নেহার, হাশমী, আব্বাস চেয়ারম্যানসহ বিহারী ও জামাতিরা, যারা একই মায়ের সন্তান।

সাক্ষী বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় এড. জহির উদ্দিনকে জাতীয় পরিষদের প্রার্থী করা হয়। এ প্রার্থীর স্বপক্ষে নৌকা প্রতীক নিয়ে আমরা ভোট চেয়েছি। ‌ঐ নির্বাচনে অপজিশন প্রার্থী হিসেবে কুখ্যাত গোলাম আযম দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। আঞ্জুমান মহাজেরীর পক্ষে এড. দেওয়ান বারাসাত হাতী মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে।এক পর্যায়ে দেওয়ান সাহেব গোলাম আযমের পক্ষে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে।

এ সময় কাদের মোল্লাসহ জামায়াতি ও বিহারীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে, গালি গালি মে শোর হে শেখ মুজিব পাকিস্তানকা দুশমন হে গাদ্দার হে’ স্লোগান দিতে থাকে।

এরপর সাক্ষী শহিদুল হক মামা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও ৩১ জানুয়ারী মিরপুর শত্রু মুক্ত হয়নি। ১৭ ডিসেম্বর আমি রায়ের বাজার বদ্ধভূমিতে যাই সেখানে বুদ্ধিজীবীর অনেক লাশ এবং এক বস্তা চোখ উদ্ধার করি। পরে তা পাশে কবর দিয়ে দেই।

এছাড়াও সাক্ষী ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং দেশে এসে যুদ্ধকালীন বিষয়ে কথা বলেন।

গত ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২।

একটি মামলায় তাকে ২০১০ সালের ১৩ জুলাই সুপ্রিমকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে তদন্তকারী সংস্থার এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ আগষ্ট কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আটক রাখার আদেশ দেয়া হয়।

রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/জেডকে/আরআই_ ১৫৫৮ ঘ.

শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
 
 
 
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক:
কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 

 

অন্যান্য সংবাদ (রাজনীতি)

ভাইয়ের লাশের পাশে অশ্রুসিক্ত বোন

ঢাকায় সাঈদ ইস্কান্দারের মরদেহ

বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে আমার গবেষণা নেই: মিছবাহুর

রংপুরে জামায়াতের মিছিলে লাঠিচার্জ

খালেদ মোশাররফের দেয়া উপাধিতে আমি ‘বিচ্ছু জালাল’

তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায় সবচেয়ে বিতর্কিত: রফিকুল

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মুনতাসির মামুনের জেরা শেষ

নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: মায়া

বাংলাদেশে ইসলামী নেতৃত্বের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ

খালেদা জিয়ার রাজবাড়ী জনসভা স্থগিত

সাঈদ ইস্কান্দারের মরদেহ আসছে বুধবার

‘সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সুযোগ নেই’

আল-বদর হিসেবে কামারুজ্জামানের নাম শুনেছি, দেখিনি: সাক্ষী

সাকার সহায়তায় বাবাকে হত্যা করা হয়েছে: সাক্ষী

বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সব কর্মসূচি স্থগিত

সাঈদীর পক্ষে ৬ষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি

হুমকি দিয়ে লাভ নেই, আ.লীগ হুমকিতে ভীত নয়: হানিফ

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন

অস্থিতিশীলতা এড়াতে তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প নেই: ফারুক

‘বিশ্ব ব্যাংকের ফিরে আসা কূটনৈতিক সফলতা’