সংসদকে খুলে দিতে মুরসির ডিক্রি
|
 |
 |
 |
|
Mon 9 Jul 2012 6:26 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ৯ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- মিশরে মুলতবি করা জাতীয় সংসদকে আবারো কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।
মুরসি এজন্যে এক ডিক্রি জারি করেছেন। মিশরের সাংবিধানিক আদালত এর আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার যে রুলিং দিয়েছিল এ ডিক্রির মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।
প্রেসিডেন্ট মুরসি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মিশরের নতুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে, মুরসির এ সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী ও সর্বোচ্চ আদালতের সাথে তার দুরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে, গত ১৪ জুন মিশরের সাংবিধানিক আদালত দেশটির জাতীয় সংসদের এক-তৃতীয়াংশ আসনকে অবৈধ ঘোষণা করে সংসদ ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেয়।
মিশরের সামরিক পরিষদ জাতীয় বাজেট ঘোষণা এবং নতুন সংবিধানের ওপর ভেটো দেয়ার ক্ষমতাও কুক্ষিগত করেছে।
এসব পদক্ষেপ মিশরের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অনেকটাই ক্ষমতাহীন করছে। আর মুরসি এধরনের প্রশাসনিক জঞ্জাল সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
মিশরের জাতীয় সংসদ এখন চালু হলে জনগণের জন্যে নতুন আইন তৈরি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে কাজ শুরু করতে পারবে।
এর আগে জাতীয় সংসদে ব্রাদার হুড অর্ধেক আসন পায়। ব্রাদার হুড শুরু থেকেই বলে আসছিল সংসদ মুলতবি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।
আর সামরিক পরিষদের কোনো আইনগত ক্ষমতাও ছিল না সংসদ মুলতবি করার।
তবে সংসদ খুলে দেয়ার ব্যাপারে মুরসি যে ডিক্রি জারি করলেন তা নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা সামরিক পরিষদের সাথে আলোচনা করেছেন কি না তা পরিস্কার নয়।
তবে মুরসির এই ডিক্রি ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে মিশরের সামরিক পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসছে এবং সুপ্রীম কোর্ট বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
মুরসির ডিক্রি অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হলে তা এ বছরের মধ্যেই করতে হবে।
সংসদ নির্বাচনের পর মিশরের নতুন সংবিধান রচনার মত গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে মুরসিকে।
এদিকে সংসদে ব্রাদার হুডের বিশাল জয়কে মিশরের ধর্মনিরপেক্ষবাদী, উদারপন্থী ও খৃষ্টান সংখ্যালঘুরা নতুন করে পর্যালোচনা করছে।
মিশরের বিখ্যাত ধর্মনিরপেক্ষবাদী নেতা এল বারাদি মুরসির সংসদ খুলে দেয়ার সমালোচনা করেছেন।
অথচ মিশরে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সর্বোচ্চ আদালত সংসদ ভেঙ্গে দিলে বিষয়টি মুরসিকে কম মনক্ষুন্ন করে তোলেনি।
মিশরের সিনিয়র রাজনীতিবিদরা আদালতের মাধ্যমে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়টিকে মোটেই সুনজরে দেখছেন না।
তারা এমন অভিযোগ করেছেন, যে মিশরের সর্বোচ্চ আদালত সামরিক পরিষদের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে।
এমনকি দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হবার পর ভোট গণনার চলাকালে সংবিধানে বিশ কিছু সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি মিশরের সিনিয়র রাজনীতিবিদরা ভাল চোখে দেখেননি।
তবে মুরসির ডিক্রিতে সামরিক পরিষদের ইচ্ছেমত আইনগত ক্ষমতা হারিয়েছে কি না বা সংসদ কবে কাজ শুরু করবে তা স্পস্ট নয়।
মিশরে আল জাজিরার সংবাদদাতা রাওইয়া রাঘে মুরসির এ ডিক্রিকে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের চ্যালেঞ্জ করা নাকি তাদের সাথে আলোচনা করে এধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে মুরসির এ ডিক্রি অনুসারে মিশরের সংসদ আদৌ কাজ শুরু করতে পারবে কিনা বা আইনগত জটিলতায় তা আটকে পড়বে তা দেখার জন্যে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ব্রাদার হুড দাবি করছে সামরিক পরিষদের সংসদ মুলতবি করার কোনো ক্ষমতাই নেই। তাই প্রশাসনিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে দলটি।
চারদশকের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর অন্তর্বর্তী শাসন ব্যবস্থায় সংসদকে মুলতবি করার মত আইনগত ক্ষমতা কারো ছিলা না বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে মোহাম্মদ মুরসি জয়লাভের পর সংসদের সাধারণ অধিবেশন ডাকা তার ওপার বর্তায় বলে মনে করছেন মিশরের অধিকাংশ নাগরিক।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/আরআই_ ১২১৫ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|