দুর্নীতিবাজদের রক্ষার জন্য সরকার সবকিছু করছে: ফখরুল
|
 |
 |
 |
|
Wed 4 Jul 2012 12:34 AM BdST
|
ঢাকা, ৩ জুলাই (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে অর্থমন্ত্রী সংসদে মিথ্যা ভাষণ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীদের দুর্নীতি আড়াল করতে সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে লালবাগ থানা বিএনপি এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সোমবার অর্থমন্ত্রী সংসদে তার দীর্ঘ বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছেন পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি। অথচ সরকারের উচ্চ মহল এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার কারণেই বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করেছে, যা বিশ্ব গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করার জন্য সরকার সবকিছু করছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষণ তা-ই প্রমাণ করে। কারণ সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের সাফাই গাইছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির বিচার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
পদ্মা সেতু নিয়ে মালয়েশিয়ার সাথে যে চুক্তি করা হবে তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনস্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো চুক্তি করা হলে জনগণ তা মানবে না। মালয়েশিয়ার সাথে পদ্মা সেতু নিয়ে যে চুক্তি করা হবে তা জনগণ জানতে চায়।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সব মানুষ জানে দাতা সংস্থার ঋণ থেকে বাণিজ্যিক খাতের ঋণের সুদের হার অনেক বেশি হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ব্যতিরেকে বিকল্প অর্থায়ন খুঁজে জনগণের ওপর কুইক রেন্টালের মতো ঋণের নতুন বোঝা চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা কোনোদিন মেনে নেবে না।
বিশ্বব্যাংকের সাথে পুনরায় আলোচনা করে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
খালেদা জিয়ার রাজনীতি থেকে অবসর নেয়া উচিত- বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যাদেরকে মানুষ চেনে না। যাদের নাম মানুষ কখনো শোনেনি তারা কিভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মতো আপোষহীন নেত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের কথা বলার সাহস দেখায়। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে এসব মন্তব্যের কঠোর জবাব দেবে।
সরকার গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার অন্যায়-অত্যাচার করে গণমানুষের কণ্ঠরোধ রোধ করতে চায়। যারাই তাদের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কেবলমাত্র গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হওয়ার কারণেই বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ অনেক নেতা-কর্মীকে এখন কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে।
অবিলম্বে তিনি এসব নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।
লালবাগ থানা যুবদলের সভাপতি তাসাদ্দেক হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/একেএ/আরআই_ ১৮২৯ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|