জম্মদিনে গ্রামীণ ব্যাংককে না ভাঙ্গার আবেদন জানালেন ইউনূস
|
 |
 |
 |
|
Fri 29 Jun 2012 3:13 AM BdST
|
ঢাকা, ২৮ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- বাহাত্তর বছর পেরিয়ে গেল ইউনূসের। এই শুভ জম্মদিনে সরকারের কাছে আবেদন রাখলেন গ্রামীণ ব্যাংকের অবকাঠামো অপরিবর্তনের জন্যে। তাও সাধারণ মানুষের মাধ্যমে। সামাজিক ব্যবসার ওপর ফের জোর দিয়েছেন মুহম্মদ ইউনূস।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ওই ব্যাংকের বর্তমান আইন কাঠামোর পরিবর্তন করে গরিবের মালিকানা নিয়ে যাওয়া হলে সেটি ভুল কাজ হবে, চরম ভুল কাজ হবে।
তিনি বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, তারা যেন সরকারকে বোঝান যে এই ভুল কাজ যেনো না করে।
বৃহস্পতিবার জন্মদিন উপলক্ষে সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে ‘সামাজিক ব্যবসা-২০১২’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ১৯ দেশের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তারা শেয়ার কিনছে। এভাবে মালিকানার সংখ্যা বেড়ে গেছে। এখন প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ৯৭ ভাগ মালিকানা সদস্যদের আর তিন ভাগ মালিকানা হচ্ছে সরকারের। সরকার যদি এখন টাকা দেয় তাহলে সেই শেয়ার পচিশ শতাংশ হয়ে যেতে পারে।
সরকার যদি টাকা না দেয় তাহলে কি এই ভাগ এক সময় শূন্য হতে পারে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষুদ্র ঋণের এই প্রবর্তক বলেন, সরকার যেহেতু কিছু টাকা দিয়েছে। তাই সেটা শুন্য না হয়ে কাছাকাছি যেতে পারে।
এর আগে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, যে কোন সামাজিক সমস্যা দূর করা সামাজিক ব্যবসায়ের মূল কথা। মুনাফার উদ্দেশ্যে নয়, এই ব্যবসায় থেকে মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ হবে এই ব্যবসাতেই। এটা আনলিমিটেড পাওয়ার। এটা কাজে লাগাতে পারলে আমারা বিশ্বকে বদলে দিতে পারবো।
এনজিও কার্যক্রমের সাথে সামাজিক ব্যবসায়ের পার্থক্য বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, এনজিও অনুদানের টাকা একবারই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সামাজিক ব্যবসায়ে টাকা বার বার বিনিয়োগ হবে।
শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৭৩-এ পা রাখলেন। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষার প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল নিজ গ্রামেই।
এরপর চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, চট্টগ্রাম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। প্রতিটি ধাপই শেষ করেছেন সাফল্যের সাথে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ড. ইউনূস শিক্ষকতা করেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন। যুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ তার ভাবনাকে বদলে দেয়। বুঝতে পারেন, স্বল্প সহায়তা পেলে দরিদ্র মানুষের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। শুরু হয় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই। সে সময় গবেষণার জন্য চালু করেন অর্থনৈতিক প্রকল্প, যা আজকের গ্রামীণ ব্যাংকের সূতিকাগার। '৭৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক, যা ৫৩ লাখ দরিদ্র মানুষকে এখন পর্যন্ত পাঁচ দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংককে রোল মডেল হিসেবে অর্থনীতির নতুন ধারা সৃষ্টিতে কাজ করছে।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/এইচএ/আরআই_ ২১০৯ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|