প্রেসিডেন্ট পদে প্রণবের মনোনয়নপত্র দাখিল
|
 |
 |
 |
|
Thu 28 Jun 2012 7:16 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ২৮ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) প্রার্থী প্রণব মুখার্জি তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পর আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে তিনি মনোনয়পত্র দাখিল করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন- কংগ্রেস সভানেত্রী ও ইইপিএ জোট নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, সমাজবাদী পার্টির মুলায়েম সিং যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের লালু প্রসাদ।
এছাড়া আদিবাসী নেতা ও লোক সভার সাবেক স্পিকার পিএ সাংমা আজ প্রেসিডেন্ট পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি বিরোধী বিজেপি দলের সমর্থিত প্রার্থী। তবে ক্ষমতাসীন তৃণমুল কংগ্রেস নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাকে সমর্থন দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগামী ১৯ জুলাই ভোট হবে। এরপর ২২ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিলের ক্ষমতার মেয়াদ ২৪ জুলাই শেষ হচ্ছে। নির্বাচিত হতে পারলে প্রতিভা পাতিলের উত্তরসূরি প্রণব মুখার্জি হবেন প্রথম বাঙালি প্রেসিডেন্ট।
এরআগে সংসদ বিষয়কমন্ত্রী পবন কুমার বনশাল জানান, ইউপিএ-এর শীর্ষনেতাদের স্বাক্ষর সম্বলিত চারদফা মনোনয়নপত্র পেশ করবেন প্রণব মুখার্জি।
৪৮০ জনেরও বেশি বিধায়ক প্রণব মুখার্জির মনোনয়নে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। এতে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রধানরা রয়েছেন।
মনোনয়ন পেশ করার পর বনশাল হবেন মুখার্জির স্বীকৃত প্রতিনিধি। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন চাওয়া হবে কিনা, বনশালকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এটা আমার কাজ না। আমি এটা নিয়ে এখন কিছু বলতেও পারছি না।’
গত ১৫ জুন কংগ্রেস সভাপতি ও ইউপিএ জোটের প্রধান সোনিয়া গান্ধী প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার জন্য বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা প্রণব মুখার্জির নাম ঘোষণা করেন।
কে এই প্রণব মুখার্জি প্রণব মুখার্জির জন্ম অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার কীর্ণাহার শহরের নিকটস্থ মিরাটি গ্রামে। তার পিতার নাম কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম রাজলক্ষ্মী দেবী।
প্রণব মুখার্জি একজন কলেজশিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি সাংবাদিকতাও করেন কিছুকাল। এই সময় তিনি ‘দেশের ডাক’ নামে একটি পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের’ ট্রাস্টি ও পরে ‘নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের’ সভাপতি হন।
প্রণব মুখার্জি বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিদেশ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালনের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।
দলের প্রতি আনুগত্য ও অসামান্য প্রজ্ঞা এই বাঙালি রাজনীতিবিদকে কংগ্রেস দলে ও এমনকি দলের বাইরেও বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘শ্রেষ্ঠ সাংসদ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউরোমানি পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জি পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন শুভ্রা মুখার্জির সাথে। সংসার জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক কন্যা বর্তমান। তার অবসরকালীন শখ বই পড়া, বাগান করা ও গান শোনা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/এমএম/এমআই_ ১৩১২ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|