যুদ্ধাপরাধী বিচারে প্রহসন চলছে
|
 |
 |
 |
|
Mon 25 Jun 2012 8:12 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ২৫ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে যুদ্ধপরাধী বিচারের নামে প্রহসন চলছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ইউরোপভিত্তিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, কমিউনিটি অর্গানাইজেশন, আইনজীবি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ গত শনিবার প্রেসক্লাব কনকোর্ডিয়ায় ইউরো-এশিয়া হিউম্যন রাইটস, অষ্ট্রিয়ার আয়োজনে ‘হিউম্যন রাইটস এণ্ড ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে বাংলাদেশের মানাবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের উপর সরকারের চলমান দমন নিপীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, যদিও বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, তথাপি তাদের কার্যকলাপ স্বৈরশাসকদের মতো।
ইসলামীক রিলিজিয়াস কমিউনিটি অষ্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. ফোয়াদ সানাক এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিক আইন বিষেশজ্ঞ ব্যারিস্টার টবি এম কেডম্যান, নরথামন্টন ইউনিভারসিটির প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন মিলাদী, হিউম্যান রাইটস কনসার্ন এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা প্রমুখ।
ব্যারিস্টার টবি এম ক্যাডম্যান বলেন, আইনের কাজ জনগণকে রক্ষা করা। তাদেরকে নির্যাতন করা নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার কখনো কথিত ট্রাইবুন্যালকে বলছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইবুন্যাল, কখনো বলছে ডমেস্টিক ট্রাইবুন্যাল। যদি আন্তর্জাতিক হয় তাহলে তাদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। আর যদি আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলেন তাতে অবশ্যই দেশীয় আইনে যে রক্ষাকবচ আছে তা অভিযুক্তদের পেতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন সরকার কোন কিছুইকেই তোয়াক্কা করছে না।
অনুষ্ঠানে ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ন ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঙ্গের তত্বাবধানে বিদেশি বিচারক নিয়োগ করে বিচার করলে বর্তমান অভিযুক্তদেরকে কোন ভাবেই দোষী প্রমাণ করতে পারবে না ।
অনুষ্ঠানে ড. নূরউদ্দিন মিলাদী বলেন, তিউনিশিয়ার বেনআলীর এক নায়কতন্ত্রের মতো বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে এক নায়কতন্ত্র চলছে।
এদিকে গত রোববার বার্লিনের গ্লাসকাস্টেনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক সেমিনারে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ওই সেমিনারে টবি ক্যাডম্যান বলেন, মিডিয়ায় বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে প্রকৃত অবস্থা তার চেয়ে ভয়াবহ।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরামর্শ দেন টবি ক্যাডম্যান। এছাড়া সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
মিসেস আয়েশা ইরিগিট আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ফের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথে ফিরে আসবে।
হিউম্যান রাইটস কনসার্নের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আবু বক্কর মোল্লা বলেন, বাংলাদেশে সকলেই যাতে আইনের সুবিধা পান সে জন্যে সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/আরআই_ ১৪০৩ ঘ.
|
|
|
|