ট্রাইবেকারেই বধ ইংল্যান্ড, শেষ চারে ইতালি
|
 |
 |
 |
|
Mon 25 Jun 2012 5:08 PM BdST
|
ক্রীড়া ডেস্ক, ২৫ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- কথায় আছে- ‘যেখানে বাঘের ভয়; সেখানে রাত হয়’। ইংল্যান্ডের কাছে ইতালি সব সময় ট্রাইবেকারে বাঘ। এবারের ইউরোতেও ব্যতিক্রম হয়নি। ট্রাইবেকারে ৪-২ গোলে হেরে ছিটকে পড়েছে ইংলিশরা। আর শেষ চারে উঠা ইতালির সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী জার্মানি।
বলা হয়, ফুটবল পূর্বানুমেয় খেলা, কিন্তু তা মাঝেমধ্যে এবং মাঝেমধ্যেই এটা ঘটতে দেখা যায়। যেমনটি রোববার দেখা গেল ইংল্যান্ড-ইতালির ম্যাচে। পূর্বানুমানকে মিথ্যা করে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ইতালি।
ইংল্যান্ডের ট্রাইবেকার দুঃখটা বেশ আগের। দিনকে দিন এটা আরও ঘণীভূত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো আসরে ট্রাইবেকারে ছয়বার পরাজয়ের বিপরীতে মাত্র একবারই তারা জয় পেয়েছে, তাও সে জয় আসে সাত শটে।
জার্মানির কাছে ১৯৯০ ও ’৯৬ সালে, ’৯৮ সালে আর্জেন্টিনার কাছে এবং পর্তুগালের কাছে হেরেছে ২০০৪ সালে। ২০০৬ সালের ইতালিতর কাছে হারার পর আবারও চলতি ইউরো থেকে তাদের কাছে হেরেই ছিটকে পড়লো ইংল্যান্ড। বিপরীতে তারা ১৯৯৬ সালে একমাত্র স্পেনের বিপক্ষে ট্রাইবেকারে জয় তুলে নেয়। ট্রাইবেকারে ৩৫ শটের মধ্যে ইংলিশরা মাত্র ২৩টি গোলে পরিণত করতে পেরেছে।
কিয়েভে রোববার নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও খেলা গোল শূন্য ড্র হলে ভাগ্য নির্ধারণে হয় ট্রাইবেকার। এই ট্রাইবেকার নিয়ে ইংল্যান্ড সব সময় ইতালিকে ভয় করে আসছে। শেষ পর্যন্ত ভয়কে আর আর জয় করা সম্ভব হয়নি রয় হজসনের শিষ্যদের।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম গোল করেন ইতালির মারিও বালোতেল্লি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ডের গোলে আসে ১-১ সমতা। ইতালির পক্ষে দ্বিতীয় শট নিতে আসা রিকার্ডো মন্টোলিভো গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন। ওয়েইন রুনির গোলে ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ইতালির পক্ষে তৃতীয় শট নিতে আসা আন্দ্রেয়া পিরলো লক্ষ্যভেদ করলেও ইংল্যান্ডের অ্যাশলি ইয়ংয়ের শট ক্রসবারে লাগলে ২-২ গোলের সমতা আসে। অ্যান্টোনিও নোকেরিনোর গোলে ৩-২ এ এগিয়ে যায় ইতালি।
এরপর অ্যাশলি কোলের শট ইতালির অধিনায়ক বুফন বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন। এরপর আলেসান্দ্রো দিয়ামান্তির গোলে ইতালি শিবিরে চলে শেষ চারে উঠার উৎসব।
এরআগে পুরো খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে খেলে আজ্জুরিরা। মাঠে ৬৩ শতাংশ বলের দখল তারা রাখে। গোলে শট নেয় ৩১ বার। এর মধ্যে ১৮ বারই অনটার্গেটে। বিপরীতে ইংল্যান্ড গোলপোস্টে আটটি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি অনটার্গেটে।
ইতালি সাতটি, আর ইংল্যান্ড তিনটি কর্নার পায়। তবে ইংলিশদের ১৫ ফাইলের বিপরীতে ইতালি করে ১০ বার। এসব পরিসংখ্যানেই অনুমেয় কতটা অগোছালো ফুটবল খেলেছেন ওয়েন রুনিরা।
জয়ের পর ইতালি কোচ সিজার প্রানডেল্লি বলেছেন, ‘সত্যিই ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। তবে গোল না পাওয়ায় পেনাল্টি ভাগ্যে আমাদের যেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অসাধারণ একটি খেলায় আমাদেরই জয় এসেছে।’
আর পরাজিত ইংল্যান্ড কোচ রয় হজসন বলেছেন, ‘যে কেউই পেনাল্টি মিস করতে পারে। এজন্য ছেলেদের দোষ দেওয়ার কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘অ্যাশলে ইয়ং বারের ওপর দিয়ে মেরেছে। আর তার ভাই অ্যাশলে কোলের শট বুফন ধরে ফেলেছে। তবে একজন খেলোয়াড়কে শুধু পেনাল্টি দিয়ে বিচার করা তার প্রতি সুবিচার করা হয় না। তারা আগের চার ম্যাচে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে বলেই জয় এসেছিল।’
ছেলেদের নিয়ে গর্বিত ইংলিশ কোচ আরও বলেন, ‘আমি এখনো ছেলেদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। তাদের মনোযোগ, ফুটবলের প্রতি অবদান এবং আসল ঘটনা হলো তারা প্রত্যেকে ইংল্যান্ডর হয়ে নিজেকে উজাড় করে দিতে সব সময় প্রস্তুত।’
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওয়েবসাইট/এমআই_ ১১০৬ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|