ক্রীড়া ডেস্ক, ১৯ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- লিঙ্গনির্ধারণে স্বর্ণ বিজয়ী অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় অ্যাথলেট পিংকি প্রামানিকের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বারাসাত সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
লিঙ্গনির্ধারণে ফলাফল প্রদানের বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে গেলেও হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষায় পিংকি পুরুষ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।
পিংকির এক সহকর্মী তার বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনার পর গত সপ্তাহে কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অনামিকা আচার্য নামের ওই অ্যাথলেট সহকর্মী জানান, পিংকি নারী নন, পুরুষ। তারা দীর্ঘদিন চুক্তিভিত্তিক দাম্পত্য জীবন উপভোগ করেছেন, পরে বিয়ে করার শর্তে।
তবে শেষ দিকে এসে পিংকি তা করতে অস্বীকার করলে অনামিকা আইনের দারস্থ হন এবং তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ আনেন।
এরপরই পিংকি প্রামানিকে লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে পিংকিকে হাজির করা হলে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে অসম্মতি জানান তিনি। পরে আদালত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে তার ডাক্তারি পরীক্ষার আদেশ দেয়।
আদালতের আদেশে মঙ্গলবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। বারাসাত হাসপাতালে ৭ জনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তার পরীক্ষা সম্পন্ন করেন বলে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান সুকান্ত সেন সাংবাদিকদের জানান। তবে তিনি পরীক্ষার ফলাফল জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
পিংকি প্রামানিক ২০০৬ সালে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ পদক জয় করেন। এছাড়া একই বছর তিনি কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য পদক পান।
প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় ভারতে সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের জেল। তবে ধর্ষণ কেস হলে তা সাত বছর, যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোগ করতে হতে পারে পিংকি প্রামানিককে।
পিংকির এই ঘটনা স্মরণ করে দেয়, ২০০৬ সালে এশিয়ান গেমসে রৌপ্য বিজয়ী সাথী সান্দারাজন একই ধরনের লিঙ্গ পরিচয়ে ডাক্তারি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এরপর ২০০৭ সালে আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে যাওয়া সাথী বর্তমানে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকান অ্যাথলেট কাস্টার সেমেনাকে নিয়ে এ ধরনের এক বিতর্ক উঠে। তারপর ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১০ সালে প্রমাণিত হয় তিনি সম্পূর্ণরূপে নারী।