খুমেকে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে আহত ২৩
|
 |
 |
 |
|
Tue 19 Jun 2012 9:33 PM BdST
|
খুলনা, ১৯জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- ছাত্রলীগের হামলাকে কেন্দ্র করে খুলনা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের পাঁচ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ১৬ জুন খুলনা মেডিকেল কলেজ শাখার শিবিরকর্মী কে-১৯ ব্যাচের ছাত্র কামরুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম কমন রুমের স্টেশনারীতে কলম কিনতে গেলে ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা স্বপনের নেতৃত্বে তাদেরকে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ওই ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ক্যান্টিনে ছাত্রশিবিরের কর্মী ও কে-১৭ ব্যাচের ছাত্র জিল্লুর রহমান, জিয়াউল হায়দার ও নাহিদ এহসান নাস্তা করতে যায়।
এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৩ নেতা-কর্মী আহত হয়।
সংঘর্ষের পর শিবিরকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেও গোটা ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে নেয় ছাত্রলীগ। এসময় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জেলা সভাপতি ডা. বাহারুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা কলেজে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ দফায় দফায় মিছিল করে। মিছিলের সময় কলেজের দরজা-জানালার গ্লাস ভাঙচুর হয়। এসময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
শিবিরের খুমেক সভাপতি হাসান মামুনুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, শিবিরকর্মী জিল্লুর রহমান, জিয়াউল হায়দার ও নাহিদ এহসান সকালে ক্যান্টিনে নাস্তা করতে যায়।
এসময় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব, চন্দন, শোয়েব, অরূপ, ডাক্তার স্বপন ও মিথুনসহ ১৫/২০ জন ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র, রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা করে।
হামলায় শেষ বর্ষের ছাত্র জিল্লুর রহমান, ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নূর ইসলাম, ৩য় বর্ষের ছাত্র মোশাররফ হোসেন ও নূরুল ইসলামসহ ১০ জন আহত হয়। আহতদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবির সভাপতি বলেন, শিবিরকর্মীরা ছাত্রলীগকে না জানিয়ে কেন ক্যান্টিনে নাস্তা করতে গেছে এ অপরাধে তারা কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে তারা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সংঘবদ্ধ হামলার পর শিবিরকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। আমরা বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানিয়েছি।’
এদিকে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ খুলনা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মিথুন বলেন, তাদের কর্মীরা ক্যান্টিনে নাস্তা করার সময় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র শিবিরকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়।
হামলায় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন শ্রাবন, চন্দন সরকার, আব্দুল্লাহ আল মঞ্জুর, অরূপ রতন রায়, তন্ময় সাহাসহ কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের খুমেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন শ্রাবন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. আবদুল্লাহ আল মাহবুব সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি শুনেছি এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুপুর ১২টায় একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা করা হয়।
বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ আক্তারুজ্জামান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মেডিকেল কলেজে রাজনীতির-অপচর্চার কারণে আজ লেখাপড়ার সাধারণ পরিবেশটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান এবং ক্লাসে যোগদান করতে না পারলেও এব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বারবার উদাসীন থেকেছে।
তিনি বলেন, যার ফলে শাসক দলের ছাত্রসংগঠন কর্তৃক বারবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় খুলনা মেডিকেল কলেজে অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বিশেষ দলের লেজুড়বৃত্তি না করে কলেজ প্রশাসনকে লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরী শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান ও সেক্রেটারি গাজী মোরশেদ মামুন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্ষমতার অব্যবহার করে ছাত্রলীগ সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, কোন্দল, ইভটিজিং, শিক্ষক লাঞ্ছিতের মতো ঘটনা ঘটিয়ে লেখা-পড়ার পরিবেশ নষ্ট করছে।
অবিলম্বে শিবিরকর্মীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডার ডাক্তার স্বপন, মাহবুব, চন্দন, শোয়েব, অরূপ ও মিথুনসহ দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিবির নেতারা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/এসআই_ ১৫৩০ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|