সীমান্ত-সন্ত্রাস বন্ধে ভারতকে আহবান জানাল এইচআরডব্লিউ’র
|
 |
 |
 |
|
Tue 12 Jun 2012 4:45 PM BdST
|
বিশ্ব ডেস্ক, ১২ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’এর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আরো বেড়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলেছে।
ভারতের তরফ থেকে বারবার বাংলাদেশকে বিএসএফ’এর এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাড়ছে দেখে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সীমান্তে গুলী করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও আটকের মত ঘটনার পুরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্যে তৎপর হতে বিএসএফকে আহবান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটালেও তা থেকে বাহিনীটিকে বিরত রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিএসএফএর এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপুযুক্ত শাস্তি হলে তা কমত বলেও মনে করেন মীনাক্ষী গাঙ্গুলী।
এর আগে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে এক দশকে সীমান্তে অন্তত এক হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার তথ্য দিয়ে বিএসএফকে রাবার বুলেট ও সহনশীল মনোভাব দেখানোর আবেদন জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। কিন্তু এরপরও পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হয়নি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক তদন্তে দেখা গেছে সীমান্তে বিএসএফ গুলী ছাড়াও নিরাপরাধ লোকজনকে ধরে প্রচণ্ড মারধর করছে ও আটকে রাখছে। আর এধরনের অত্যাচার থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরা রেহাই পাচ্ছে না। বিএসএফের হেফাজতে মানুষের মারা যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।
সীমান্তে দুটি দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিএসএফের এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এধরনের ঘটনার দ্রুত পুনরাবৃত্তি ঘটত না। কিন্তু ভারত সরকার এদিকে যথাযথ নজর না দেয়ায় বিএসএফের এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছেই বলে মনে করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ ও ভারতের একই ধরনের সংস্থা ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ এর তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অধিকারের তরফ থেকে বিএসএফ ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যার তথ্য দেয়ার পাশাপাশি ভারতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে একই সময়ে বিএসএফ সেখানেও ৫ জনকে হত্যা করেছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা মাসুম হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানায়, গত ২২ এপ্রিল বিএসএফ রক্ষীরা ভারতের নাগরিক বাবু শেখকে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়াই গুলি করে আহত করার পর ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং সেখানে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়।
মাসুম জানায়, গত পহেলা জানুয়ারি ভারতীয় চার কিশোরকে বিএসএফ তাড়া দিলে তার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে কিন্তৃ এরপরও বিএসএফ তাদের বেদম প্রহার করে।
অধিকারের এক তদন্তে দেখা যায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হিলি সীমান্তে মিজানুর রহমান নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে বিএসএফ প্রচণ্ড মারধর করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে মারা যায়। ময়না তদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে মিজানের মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়, চোয়াল, কান, দাঁতের মারি ভেঙ্গে যায়।
গত বছর মাসুম একটি ভিতিও চিত্র দেখায় যেখানে বিএসএফ এক বাংলাদেশি নাগারিককে ধরে উলঙ্গ করে পেটাতে থাকে। এ দৃশ্য বিভিন্ন দেশের টেলিভিশনে প্রচারের পর বিএসএফের আট রক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় ভারত সরকার।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, যদিও ভারত সরকার দাবি করে বিএসএফ কোনো নির্যাতন করলে তাদের জবাবদিহী করতে হয় কিন্তু আদতে তার কোনো নজির দেখা যায় না। তিনি বলেন, ভারত সরকার যতক্ষণ না এসব ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্তের ব্যবস্থা না করবে ততক্ষণ এধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সীমান্তে গরীব জনগণ বাস করে যারা জীবীকার জন্যে যাতায়াত করে বা যারা সত্যি চোরাচালান বা নারী পাচার বা অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ইচ্ছে করলেই বিএসএফ আটক করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে। এজন্যে গুলি করে মানুষ হত্যার প্রয়োজন পড়ে না।
ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার তাগিদ দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এর ব্যতয় হলে ভারতকে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে। বিএসএফ রক্ষীরা তা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে তাদের বিচারের মুখোমুখী নিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভারতের উচিত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এ ধরনের তদন্ত প্রয়োজন এ জন্যে যে মাওবাদীদের দমনে বিএসএফকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের নাগারিকদের সাথে অব্যাহতভাবে বর্বর আচরণ করছে যা রোধ করা উচিত।
গত বছর মার্চে সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম বিএসএফের কাছে অস্ত্রের বিরুদ্ধে লাঠি ব্যবহারের অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপরও বিএসএফ তা করেনি। যদিও বিএসএফ প্রধান তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, এখন সময় এসেছে ভারত সরকারকে ওয়াদা রক্ষা করার এবং একই সাথে বাংলাদেশ সরকারের উচিত সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করতে ভারত সরকারের কাছে জনদাবি উত্থাপন করা।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/ওযেবসাইট/আরআই_ ১০২৬ ঘ.
|
|
|
|
| পাঠকের মন্তব্য: |
| |
| |
| |
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক: |
| |
|
|
|