জনগণ এখন সরকারকে বিদায় জানাতে চায়
|
 |
 |
 |
|
Tue 12 Jun 2012 4:55 AM BdST
|
ঢাকা, ১১ জুন (রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম)-- শুধু বিএনপি নয়, ১৮ দলের শরিকদের মুখেও সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কথা। সদ্য ১৮ দলের সাথে যোগ দেওয়া বিএনপি সাবেক নেতা এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ থেকে শুরু করে জামায়েত নেতারাও সরকারের কড়া সমালোচনা করে অবিলম্বে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পূর্নবহালের দাবী জানান।
সোমবার নয়াপল্টনে ১৮ দলের গণসমাবেশে জোট নেতারা সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এসব বক্তব্য দেন।
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ বলেন, এই সরকার দেশকে সন্ত্রাসের রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য, যা করার প্রয়োজন এই সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাই করছে।
তিনি বলেন, এই সরকারের সাড়ে তিন বছরে ১৪৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে অথচ তাদের একটিরও সুনির্দিষ্ট কোন বিচার হয়নি। এমন কি কোন কোন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি।
মকবুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে বয়কট করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ঘটনা। সরকারের সব বাধা উপেক্ষা করে ১২ মার্চের সমাবেশ থেকে সোমবারের সমাবেশে দ্বিগুন মানুষ বেশি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এলডিপির চেয়ারম্যান (অব.) অলি আহমেদ বলেন, সরকার যে ভাবে দেশকে দুর্নীতির রাজ্যে পরিণত করেছে, তাতে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন দুর্নীতিপরায়ন রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আওয়ামীলীগের অপশাসন আর দুর্নীতির কারণে জনগণ এখন এই সরকারকে বিদায় জানাতে চায়।
তিনি বলেন, নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোন গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হবেনা। এটা শুধু আমরা বলি নাই বিদেশীরাও বলেছে। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে বিরোধীদলের সাথে আলোচনা ছাড়া কোন সমস্যার সমাধান হয় না।
বিজেপির সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, শেয়ারবাজার, পদ্ম সেতু, সুরঞ্জিতের দুর্নীতি সম্পর্কে আমরা সরকারকে বারবার সর্তক করেছিলাম কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। দেশে যেভাবে দুর্নীতি শুরু হয়েছে, তাতে সরকার জনরোষে পরে পালানোর পথ খুঁজে পাবেনা।
তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের কথা বললে নাকি আমরা দেশদ্রোহী হবো। আমি সরকারকে বলতে চাই কুইক রেন্টাল প্রবর্তন করার কারণে আপনারা ইতোমধ্যে জাতিদ্রোহী হিসাবে অভিযুক্ত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিদেশীরা শত্রু , সাংবাদিকরা শত্রু তার সাথে আমরাও শত্রু, তাহলে এই সরকারের আপন কে? আমার মনে হয় তাদের আপন দীপু মনি আর আবুল মালরা।
বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরি বলেন, বেগম জিয়া ৯০ সালে সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পূনর্বহালের জন্য সেই সর্বদলীয় ঐক্য গড়ে তুলে দাবি আদায় করতে হবে।
তিনি বলেন, নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। যার কারণে জনগণের সেই বিজয় খুবই সন্নিকটে, বিজয় আমাদের হবেই।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসহাক বলেন, এই সরকার ইসলামের উপর হাত দিয়েছে, তারা সংবিধান পরিবর্তন করে আল্লাহর উপর আস্থা উঠিয়ে দিয়ে গুম, হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, শেখ হাসিনাকেউ সেই ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে, এরশাদের চেয়েও হাসিনার পরিনতি আরো ভয়াবহ হবে।
তিনি বলেন, যেভাবে সরকার গুম, হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে শেখ হাসিনার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, ১৮ দলের নেতাদের আটক রেখে সমাবেশকে বানচাল করার জন্য সরকার যতই যড়ষন্ত্র করেছিল, লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাদের সেই যড়ষন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে।
রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম/এএস/আরআই_ ২২০৭ ঘ.
|
|
|
|