Real-time News Network

তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

Mon 17 Aug 2009 4:56 AM BdST

rtnn ১৬ আগস্ট, রবিবার (আরটিএনএন)— জিম্বাবুয়ের বিশাল সংগ্রহ ৩১২ রানকে মামুলি বানিয়ে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে স্বাদ নিল টানা দুইটি সিরিজ জয়ের। আর তামিমের দেড় শতকের কাছে ম্লান হয়ে চার্লস কভেন্ট্রির রেকর্ড ১৯৪ রান। হার্ট হিটার বলে পরিচিত চট্টগ্রামের ছেলে ওপেনার তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি রীতিমত শাসন করেছেন জিম্বাবুয়ান বোলারদের। আর তাঁর কল্যাণেই মূলত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তামিম মাত্র ১৩৮ বলে ১৫৪ রান করে থেমেছেন স্পিনার প্রাইসের বলে । ইনিংসে তাঁর রয়েছে ৭ চার আর ৬ ছক্কা। দুই ওপেনারের গড়ে দেয়া ভাল সূচনার পথ ধরে শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর নাঈম ইসলাম অপরাজিত থেকে দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের বন্দরে। ১৩ বল হাতে থাকতে জয় পেয়েছে ৪ উইকেটের। এটা বাংলাদেশের জন্যও নতুন এক রেকর্ড। এর আগে টাইগাররা কখনও এতো বড় স্কোর তাড়া করে জয় পায় নি। চলতি সিরিজে এটা তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। রকিবুল ৩৫ আর সাকিব ১৯ রান করে আউট হয়েছেন।

খেলার শুরুতে মাত্র ২৭ বলে ৩৮ রান করে বিদায় নেন ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিক। আর ২৮ বলে ১০ রান করেন সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মাসাকাদজা ২টি এবং প্রাইস নিয়েছেন ৩টি উইকেট। জিম্বাবুয়ে তাদের নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান করে।

এর আগে বাংলাদেশ দল দেখেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে জিম্বাবুয়ে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা। আরেকটু বাড়িয়ে বললে বলতে হয় একজনের কথা। তিনি চার্লস কভেন্ট্রি। তিনি যে কতটা ভয়ঙ্কর তা আজ রবিবার টের পেয়েছে টাইগার বাহিনী। ওয়ানডেতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ার দিনে তাঁর একার রানের নিচে চাপা পড়েছে বাংলাদেশ।

কভেন্ট্রি মাত্র ১৫৬ বলে ১৬ চার আর ৭ ছয়ে অপরাজিত থেকে করেছেন ১৯৪ রান। তাঁর আগে ওয়ানডের সর্বোচ্চ রানের স্কোর পাকিস্তানি ওপেনার সাঈদ আনোয়ারের। ১৯৯৭ সালে চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে তিনি একই সংখ্যক রান করেছিলেন তিনি। তবে সাঈদ আনোয়ার কভেন্ট্রির চেয়ে ১০ বল কম খেলেছিলেন। ২২ চার আর ৫ ছয়ে তিনি এই কালজয়ী ইনিংস খেলেছিলেন। দীর্ঘ ১২ বছর পর তার সমান স্কোর করলেন কভেন্ট্রি।

তাঁর এই অনবদ্য ইনিংসের দিনে জিম্বাবুয়ে করেছে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান। আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩১৩। সময়ই বলে দেবে সাকিব, আশরাফুল আর রকিবুলরা ব্যাটিং স্বর্গ বলে পরিচিত বুলাওয়ের কুইন্স স্পোটর্স ক্লাব উইকেটে কি করতে পারেন?

রবিবার চতুর্থ একদিনের ম্যাচে টস জিতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক প্রসপার উতসেয়া ব্যটিং-এর সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। আগের ম্যাচের মতো মাহবুবুল আলম তার প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই তুলে নেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ভারমুলেনের উইকেট। প্রাথমিক বিপদ সামলে ঘুরে দাঁড়ায় তৃতীয় একদিনের ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার হ্যমিল্টন মাসাকাদজা আর ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা কভেন্ট্রি। আক্রমণাত্মক খেলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৮ রান তুলেন।

আপাতত দলকে করেন বিপদমুক্ত। দলীয় পাঁচ রান থেকে ৮৭ রানের মাথায় গিয়ে মাসাকাদজা ৩৬ বল খেলে ২১ রান করে মোহাম্মদ আশরাফুলের বলে রকিবুল ইসলামের হাতে ধরা পড়েন। তবে দলীয় ১০২ রানের মাথায় ব্রেন্ডন টেলর ও ১১১ রানে উইলিয়ামস আউট হয়ে গেলে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। টেলর ৯ রান করে এনামুল হক জুনিয়রের বলে এলবিডব্লিউ হন। আর নাঈম ইসলামের বলে সরাসরি বোল্ড হন উইলিয়ামস।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি জিম্বাবুয়েকে। একের পর এক চার আর ছয়ের মার মেরে দলকে বিশাল স্কোরের দিকে নিয়ে যায় চার্লস কভেন্ট্রি। তিনি বাংলাদেশি বোলারদের ওপর রীতিমতো চড়াও হয়ে খেলেছেন। ১০০ রান করেন মাত্র ১১০ বলে। এরপর ৯৪ রান করতে খেলেন ৫৬ মাত্র বল। তিনি ছাড়া শেষ দিকে উল্লেখ করার মতো রান করেছেন মাতসিকেনেরি ৩৭ আর চিগাম্বুরা ১৫রান।

বাংলাদেশ দলের পক্ষে মাহবুবুল আলম ৬৩ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন। এনামুল জুনিয়রও পেয়েছেন ৫১ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট। এছাড়া আশরাফুল ও নাঈম একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

আরটিএনএন ডটনেট/এমআই


শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
 
বেলজিয়াম থেকে পুজা লিখেছেন,
সাবাস বাঘের বাচ্চা।
16
 
 
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন। সবগুলো ঘর পুরণ করা আবশ্যক:
কীবোর্ড Bijoy      UniJoy      Phonetic      English
নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য: